রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ঘুষ ও দুর্নীতি কমছে না। অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, লোপাট ও দুর্নীতি। আর এ দুর্নীতি প্রতিরোধে আকস্মিক
অভিযানে নামছে দুদকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের(দুদক) কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন,  রাষ্ট্রীয় সেবা খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধে শিগগিরই অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত আসছে।

 তিনি আজ মঙ্গলবার এ প্রতিবেদকে বলেন, রাষ্ট্রীয় সেবা খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে দুদক।  আর দুদকের মহা পরিচালক (ডিজি) পদমর্যাদার কর্মকর্তারা হঠাৎ যে কোনো সরকারি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠানে হাজির হবেন। দুদকের ডিজির আকস্মিক পরিদর্শনে বাস্তব চিত্র ফুটে উঠবে। আর তাৎনিকভাবে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হলে জনগণ অনেক সুফল পাবেন। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ঘুষ ও দুর্নীতি অনেকটা প্রতিরোধ সম্ভব হবে।

আকস্মিক পদিশর্নের বিষয়ে আইনগত দিক খতিয়ে দেখার জন্য দুদকের  আইন বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে জানান তিনি।

কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্প বলেন, মাস কয়েক আগে গোপালগঞ্জে এক সাব রেজিষ্ট্রী অফিসে আকস্মিক
পরিদশনে যান দুদকের কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ। তিনি (নাসির উদ্দিন) দেখতে পান জনগণের জায়গা জমির মূল্যবান কয়েক শত দলিল স্বাক্ষরের অপেক্ষায় অবহেলিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। দুদক কমিশনার  ওইসব দলিল ফেলে রাখার কারণ জিজ্ঞাসা করলে কোনো জবাব দিতে পারেননি ওই সাব রেজিষ্ট্রার। তবে দ্রুত সই স্বাক্ষর করে দলিলগুলো সংরক্ষনের প্রতিশ্রুতি দেন ওই রেজিষ্ট্রার।  

এদিকে আগামী ৯ ডিসেম্বর দুদক জাকজমক ভাবে পালন করবে দেশব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবস পালন করা হবে। এ উপলক্ষে দুদক এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের নামকরা  সরকারি হাসপাতাল,সাব রেজিষ্ট্রী অফিস, ভূমি উপ কমিশনার (এসি ল্যান্ড)  অফিস, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অিফস, ওয়াসা, বিদ্যুৎ অফিস, আয়কর অফিস, তহসিল অফিস, সিটি করপোরেশন, পৌর সভা, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রিত থানাগুলো, কারাগার, বিআরটিএ, বিআরটিসি, রেল স্ট্রেশন, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, শিক্ষা বোর্ড এবং পরীক্ষাগারসহ সেবামূলক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে জনগণ নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।  আর ওইসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারী  নানা কৌশলে জড়িয়ে পড়ছেন ঘুষ,র্দর্নীতি আর সরকারি অর্থ  ও সম্পদের লোপটের সঙ্গে। এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে আসা নিরীহ জনগণ একদিকে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন অপর দিকে বাধ্য হচ্ছেন ঘুষ দুর্নীতিকে মেনে নিতে। শুধু তাই নয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরেও শিকড় গেড়েছে নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতি। নিয়োগ, বদলি, পদায়ন এবং অফিসিয়াল ছুটি ও বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি এবং স্বজন প্রীতির অভিযোগ রয়েছে।

 একে,