অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলে ভাসতে থাকা ৬৪ বাংলাদেশির মধ্যে আরও ১৭ জন দেশে ফিরেছেন।

আজ (২৫ জুন) মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের কিউআর-৬৩৪’র একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।  

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তারা বর্তমানে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের ভেতরেই অবস্থান করছেন। তাদের নিজ নিজ এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিতের পরই বের হতে দেয়া হবে বলে জানা গেছে।  

এর আগে গত ২১ জুন (শুক্রবার) বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিউনেশিয়ার ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ৬৪ বাংলাদেশীর মধ্যে ১৭ জন দেশে ফেরেন।

তিউনিসিয়া থেকে দেশে ফিরে আসা ১৭ জনের মধ্যে শুধু মাদারীপুর জেলার ৯জন রয়েছেন। এছাড়া বাকি ৮ জনের মধ্যে ৪ জনের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং বাকি ৫ জন নোয়াখালী, চাঁদপুর, সুনামগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মৌলভীবাজারের বাসিন্দা।

দেশে ফিরে আসা এই ১৭ জনের বেশিরভাগই বয়সে তরুণ। সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অভিবাসী হতে চেয়েছিলেন তারা। এরা হলেন- মাদারীপুরের মোহাম্মদ লাদেন মাতব্বর (২০), রাসেল মাতব্বর (৩০), রাজীব মাতব্বর (২০), জুয়েল শাহজালাল (৩৪), আজাদ রহমান (২৭), পিয়ার আলী (২৯), আকমন মাতব্বর (২০), মীর আজিজুল ইসলাম (৩৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবু বকর সিদ্দিক (২৩), শাহেজুল খাদু (২৫), ইদ্রিস জমাদ্দার (২৪), নিয়ামত শিকদার (১৮), নোয়াখালীর রফিকুল ইসলাম (২৮), চাঁদপুরের শফিকুল ইসলাম (৩৩), শরীয়তপুরের রাকিব হোসেন (২১), মৌলভীবাজারের জিল্লুর রহমান (৩৫) ও সুনামগঞ্জের শিপন আহমেদ (২১)।

ওই ১৭ জন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পুলিশের বিশেষ শাখা, ইমিগ্রেশন পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ানসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার সদস্যরা প্রাথমিকভাবে তাদের সাথে কথা বলেন। পরে জিজ্ঞাসবাদ শেষে সন্ধ্যার দিকে তাদের বিমানবন্দর থেকে যার যার বাড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেয়া হয়।

পৃথক সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে পাচারের শিকার এইসব ব্যক্তিরা জানান, স্থানীয়ভাবে দালালদের মাধ্যমে কয়েকটি রুটে তারা লিবিয়া পৌঁছান। সেখানে বেশ কিছুদিন অবস্থানের পর লিবিয়ার ত্রিপোলি উপকূল থেকে তিউনিসিয়া উপকূল হয়ে ইতালি পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

এমবি