গাইবান্ধায় হলদিয়া ও চিনিরপটল গ্রাম যমুনা নদীর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে শুক্রবার এলাকাবাসীর উদ্দ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ চিনিরপটল, হলদিয়া, গোবিন্দপুর, বেড়া গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ হলদিয়ার ভাঙন এলাকায় দাড়িয়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।
এতে বক্তব্য রাখেন কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল খালেক, সহকারী শিক্ষক আব্দুস ছালাম, স্থানীয় সমাজ সেবক আতাউর রহমান, নওয়াব আলী আকন্দ, আব্দুল মাজেদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য উপজেলার চিনিরপটলের দক্ষিণ অংশ থেকে শুরু করে হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পর্যন্ত প্রায় ৫ কি.মি. এলাকা জুড়ে যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। অব্যাহত ভাঙনে নতুন করে গত ১ মাসে আরও ৫০টি ঘরবাড়ী বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঝুকিতে রয়েছে কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ৩ তলা ভবণ, হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবণ, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ৩টি জামে মসজিদ, বেড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঈদগাঁহ মাঠসহ বিস্তৃর্ণ এলাকার ঘরবাড়ী। ফলে নদীর তীরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙন প্রতিরোধে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোড এ পর্যন্ত কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
জানা যায়, ১শত ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সাথালিয়ার উত্তর সীমানা থেকে চিনিরপটল পর্যন্ত প্রায় ৫ কি.মি. এলাকা যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ গত বছর শেষ করা হয়েছে। ওই কাজের সাথালিয়া ও হাসিলকান্দি এলাকায় ওই কাজের তৈরি করা অসংখ্য ব্লক নদীর তীরে ড্যাম্পিং না করে বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ব্লকগুলো ভাঙন এলাকায় ড্যাম্পিং করা হলে হলদিয়া ও চিনিরপটল এলাকা নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে বলে এলাকাবাসীর মন্তব্য।
যমুনা নদী পানি হ্রাস পেতে শুরু করায় উপজেলার অন্যান্য পয়েন্টে ভাঙন তেমন না থাকলেও হলদিয়া এলাকায় তীব্রস্রোতে ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফলে ভাঙন এলাকায় অবস্থিত কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ৩ তলা ভবণের পূর্বাংশের ২টি পিলারের নিচ থেকে মাটি ধ্বসে যাওয়ায় ৩ তলা এই ভবনটি হুমকীতে রয়েছে।
যে কোন মুহুর্তে এ ভবণটি ভেঙে পরতে পারে। ভাঙন এলাকায় গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে অন্যস্থানে ড্যাম্পিং জি.ও ব্যাগগুলো তুলে এনে ভাঙন এলাকায় ফেলে প্রতিরোধের চেস্টা করছে। ভাঙন প্রতিরোধে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তেমন তৎপরতা না থাকায় ভবণ রক্ষার্থে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট গত রবিবার ভাঙন প্রতিরোধের আবেদন জানিয়েছেন।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থ বছরে ১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার হলদিয়া, গোবিন্দপুর ও গোবিন্দী এবং পাশ্ববর্তী ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী ও গণকবরসহ ৫টি পয়েন্টে ভাঙন প্রতিরোধে বালু ভর্তি জি.ও ব্যাগ ড্যাম্পিং করে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই সব এলাকায় আশানুরুপ কাজ না করেই কাগজে কলমে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত দেখানো হয়েছে। কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল খালেক জানান এখানে জি.ও ব্যাগ আশানুরূপ ড্যাম্পিং না হওয়ার কারণে ভাঙন থামেনি। এই প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান স্থাপনাটি বিলীন হয়ে গেলে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঠিকানাহীন হয়ে পড়বে।
জেড





