বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত দশটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানসহ অন্তত: চৌদ্দটি প্রতিষ্ঠনকে নিষিদ্ধ করেছে বহুপাক্ষিক ঋণদাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক।
আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদের মধ্যে এইসব প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের কোনো প্রকল্পে কাজ করতে পারবে না।
বুধবার (০৩ অক্টোবর) প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদন থেকে এইসব তথ্য জানা গেছে। বিশ্বব্যাংক চিহ্নিত পাঁচটি দুর্নীতির অন্তত একটির সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতার কারণে যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির প্রতি এইসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়ে থাকে।
দুর্নীতিগুলো হল- আত্মসাৎ, দুর্নীতি, আঁতাত, বলপ্রয়োগ বা ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা দায়িত্বে বাধা দেয়া।
বিশ্বব্যাংক জানায়, তাদের অনুসন্ধানে বাংলাদেশের বেশ কিছু প্রকল্পে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের খোঁজ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিষিদ্ধ হয়েছে ভারতীয় কোম্পানিগুলো। তিন মাস থেকে শুরু করে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে ৪টি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে অলিভ হেলথ কেয়ারকে ১০ বছর ৬ মাস, জয় মোদিকে ৭ বছর ৬ মাস, ফ্যামি কেয়ার লিমিটেডকে ৪ বছর ও ম্যাসলেদোস ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ৩ মাস নিষিদ্ধ করা হয়।
এছাড়া, অন্যান্য বিদেশি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- চীনের মিডল সাউথ ইউনিয়ন ইলেকট্রিক কো লিমিটেড (৪ বছর), ফ্রান্সের অবেরথার টেকনোলজিস (২ বছর ৬ মাস), বেলজিয়ামের একার্ট অ্যান্ড জিগলার বেবিগ (২ বছর), সুইজারল্যান্ডের কনভাটেক ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস জিএমবিএইচ (১ বছর ৬ মাস), মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান কনভাটেক মালয়েশিয়া এসডিএ বিএইচডি (১ বছর ৬ মাস), অস্ট্রেলিয়ার এসএমইসি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড (১ বছর)।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এসএমইসি বাংলাদেশ লিমিটেড ও এসিই কনসালট্যান্টসকেও ২ বছর ৬ মাস, জনতা ট্রেডার্সকে ১ বছর ও সৈয়দ আখতার হোসেনকে ১১ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে বিশ্বব্যাংক।
তবে, কোন প্রকল্পে এইসব দুর্নীতি হয়েছে, বিশ্বব্যাংক তার প্রতিবেদনে সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি। ঋণদাতা সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার বেশ কিছু প্রকল্পে তারা অনুপযুক্ত বিনিয়োগের আলামত পেয়েছে। ভারত ও শ্রীলংকাতেও এমন প্রমাণ পেয়েছে তারা।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, আমরা অপেক্ষাকৃত নিম্নবিত্ত ও সহিংসতায় জর্জরিত দেশগুলোতে আমাদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছি। একই সঙ্গে আমাদের অর্থ যেন সঠিক খাতে বিনিয়োগ হয়, সেই বিষয়টিও খেয়াল রাখাও আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ।
জিম ইয়াং কিমের ভাষ্য- এটি শুধু আমাদের প্রকল্পের সাফল্যের জন্যই নয়, আমাদের সংস্থার কাজই এমন। আমাদের চুক্তিই আমাদের বাধ্য করে যে, যেন দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে ব্যয়ে অর্থ হারিয়ে না যায় সেই বিষয়টি খেয়াল রাখা হয়।
এমবি





