‘আমার সোনার টুকরাকে ফিরাইয়া দেও। যেই সন্তানের লাইগা জীবন শেষ করলাম, সেই সন্তানরে মিথ্যা অপবাদ দিয়া গুলি কইরা মারলো। আমি ক্যামনে সারমু এই ব্যথা’- বলে আহাজারি করছেন রিয়াদের মা রোকেয়া বেগম। ঢাকার মতিঝিল এলাকার ঘরোয়া হোটেল মালিক আরিফুল ইসলাম সোহেল গুলি করে রিয়াদকে খুন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সন্তান হারানোর শোকে কাতর রোকেয়া বেগমমের কান্না থামছে না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ওই ডাকাতকে মাইরা আমার চাঁদের টুকরার প্রতিশোধ নাও’।
তার আহাজারিতে ওই এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশিরা সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। তাকে দেখতে আসা মানুষজনও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বুধবার দুপুরে রিয়াদের মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় রিয়াদের সাথে শেষ কথা কইছি। তখন জিগাইছিলাম, বাবা, খাওয়া-দাওয়া করছোনি। বাবায় কইছিল না, মা। এখনো ডিউটি চলছে। পরে কথা বলবে বলে আর হয়নি।’
চিরজীবনের জন্য আর রিয়াদের সাথে কথা বলা হবে না তার মায়ের। তার আকুতি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
রিয়াদ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮নম্বর হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের হাড়িয়াইন গ্রামের মৃত মফিজুল ইসলামের ছোট ছেলে।
রিয়াদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রিয়াদের জন্মের তিন মাস বয়সেই বাবা মারা যায়। দুই ভাইয়ের মধ্যে রিপন বড়। সন্তানদের মুখ চেয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন রোকেয়া বেগম।
প্রথমে বড় ভাই রিপন ঢাকায় ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে চাকরি নেয়। তারপর রিয়াদকেও ঢাকায় নিয়ে ওই মালিকের হোটেলে চাকরিতে যোগ দেওয়ায়। মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা বেতন পেত রিয়াদ।
আরো জানা যায়, এই ঈদে রিয়াদকে বাড়ি আসতে দেয়নি হোটেল মালিক। বুধবার সকাল ১০টায় রিয়াদের মৃত্যুর খবর আসে বাড়িতে।
রিয়াদের চাচি মুন্নী বেগম পরিবর্বতন ডটকমকে বলেন, মাত্র সাত বছর রিয়াদের মা-বাবার দাম্পত্য জীবন কেটেছিল। তারপর তার বাবা মফিজুল ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছিলেন রিয়াদের মা। বসতভিটা ছাড়া আর কোনো সম্পত্তি নাই তাদের।
রিয়াদ ও তার সহকর্মীরা রাজধানীর মতিঝিলের স্বামীবাগের মিতালী স্কুলের পাশে একটি নিমার্ণাধীন বাসায় (৭৩ নম্বর) একসঙ্গে থাকতো। ওখানেই রিয়াদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় মামলা হয়েছে। রিয়াদের বড় ভাই মোহাম্মদ রিপন বুধবার দুপুর আড়াইটায় হোটেল মালিক আরিফুল ইসলাম সোহেলকে আসামি করে হত্যা মামলাটি করেন।
এমএ
জাতীয়
‘আমার সোনার টুকরাটারে ফিরাইয়া দেও’
‘আমার সোনার টুকরাকে ফিরাইয়া দেও। যেই সন্তানের লাইগা জীবন শেষ করলাম, সেই সন্তানরে মিথ্যা অপবাদ দিয়া গুলি কইরা মারলো। আমি ক্যামনে সারমু এই ব্যথা’- বলে আহাজারি করছেন রিয়াদের মা রোকেয়া বেগম। ঢাকার মতিঝিল এলাকার ঘরোয়া হোটেল মালিক আরিফুল ইসলাম সোহেল গুলি করে রিয়াদকে খুন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।





