প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়। তারা নিজেরা বসে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।

আজ (রোববার) বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন। জাতিসংঘের ৭১তম অধিবেশনে যোগদান ও কানাডা সফর উপলক্ষ্যে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কখনো চাই না ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হোক, যুদ্ধ-বিগ্রহ হোক।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ হলে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবো। আমাদের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

পাকিস্তানে আসন্ন সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হওয়া এবং অত্র অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সমস্যা সমাধানে  কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারায় সার্ক রাখার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে কীনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা তার একক কোন সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের বিরুপ মন্তব্যের বিষয় জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান একটি পরাজিত শক্তি। ওই পরাজিত শক্তি কি বললো না বললো তাতে কিছু যায় আসে না।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তান তাদের মতামত দিয়েছে, তারা তাদের পিয়ারের বন্ধুদের পক্ষে সাফাই গাইছে। এতে বিচার থেমে থাকেনি।

তবে, পাকিস্তানের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক বজায় থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল। কোন দেশের সাথে হুট করে কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা যায় না। সম্পর্ক থাকবে। তারা যা বলে বলুক, আমরাও জবাব দিব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার জাতির জনক শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে জিয়া ক্ষমতায় এসে বিচার কাজ বন্ধ করে দেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধপরাধের দায়ে বঙ্গবন্ধুর সময় গ্রেফতার হওয়া প্রায় ১১ হাজার বন্দীকে ছেড়ে দিয়েছিল জিয়া এবং ২২ হাজার মামলা তুলে নিয়েছিল।

তিনি খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে বলেন, তারা যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তাদের ব্যাথা লাগছে, এটাই স্বাভাবিক।

নির্বাচন কমিশন নিয়োগ নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপিসহ বিরোধী জোটের চলমান বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি এমন নির্বাচন কমিশন যায় যাতে তারা ভুয়া ভোটার তৈরি করতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, তারা ক্ষমতায় থাকাকালে ১ কোটি ভুয়া ভোটারের তালিকা প্রকাশ করেছিল, মাগুরায় উপনির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করেছিল। এখন এনপির কাছে পরামর্শ চাইলে তারা সেই রকম নির্বাচন কমিশনার নিয়োগেরই বুদ্ধি দিবে যারা ভুয়া ভোটার তৈরি করবে। এখন আপনারাই বলেন, সেই পরামর্শ নিবো কি না?

কেবি