মেহেরপুর সদর উপজেলার পুরাতন মদনাডাঙ্গা গ্রামের আজিম উদ্দিনের মেয়ে জলি শনিবার বিকালে বাড়ির রান্নার কাজ করছিলেন। এসময় হঠাৎ করে একটি সাপ তার পায়ে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। সাপের বিষে ছটফট করতে থাকে জলি। স্থানীয় ওঝা আব্দুল মান্নানকে খবর দিয়ে নামানো হয় বিষ।
এরপর শনিবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মদনাডাঙ্গা গ্রামের শামীমের স্ত্রী চুমকী, আলাউদ্দিনের স্ত্রী কাকলী, উজির আলীর ছেলে হুদা, আফজালের স্ত্রী বেগম, হুদুর ছেলে জসিম, মহিবুলের স্ত্রী শম্পা, বজলুর মেয়ে ববিতা, শমসেরের ছেলে তরিকুল, কাউসারের স্ত্রী নার্গিস, আব্দুর রউফের স্ত্রী আয়েশা, শফিকুলের স্ত্রী জিবননারা, নিয়াজের ছেলে মিজান, মমিনের স্ত্রী ঝর্ণা, মুক্তারের স্ত্রী শিরিন, শহিদুলের ছেলে জুয়েল, ফজলুর স্ত্রী সুফিয়া, আজমের ছেলে হাবিব, নজরুলের ছেলে আলমগীর, রমযানের ছেলে ইলিয়াস, মোরজেলের ছেলে লিটন এবং হান্নানের ছেলে আশাদুল ও ইসরাফসহ প্রায় ৬০ ব্যক্তিকে সাপ কামড় দিয়েছে।
সাপ আতঙ্কে মানুষজন কি করবে তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কোনো কাজ করে বা ঘুমিয়ে শান্তি পাচ্ছেন না তারা। কেউ কেউ সাপের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে নিকট আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে। দংশনকারীদের স্থানীয় ওঝা দিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।
গ্রামবাসীরা জানান, কাউকে কামড়াচ্ছে রাস্তায় চলাফেরা করার সময়, আবার কাউকে কামড় দিচ্ছে বাড়িতে খেতে বসার সময়। সবখানেই বিরাজ করছে সাপ।
আমঝুপি ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান মিলন জানান, পুরাতন মদনাডাঙ্গা গ্রামে আগেও সাপ ছিলো তবে এবার সাপের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় পুরো গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে। খবর পেয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল এলাকা পরিদর্শন করেছে।
স্থানীয় ওঝা আব্দুল মান্নান (কবিরাজ) ধারণা করে বলেন, ভাদ্র মাসে সাপ বংশ বিস্তার করায় অসংখ্য বাচ্চা জন্ম দিয়েছে মা সাপ। আর এ সকল বাচ্চা সাপগুলো মানুষকে ভয় না পাওয়ায় তারা যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই কামড় দিচ্ছে। মাস দুয়েক পর বড় হয়ে গেলে তারা মানুষের আড়াল হয়ে যাবে ।
মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. ইসমাইল ফারুক বলেন, ওঝাদের এভাবে চিকিৎসা দেয়া মোটেও ঠিক না। যেখানে-সেখানে কাটাছেঁড়া করে চিকিৎসার ফলে অঙ্গহানীর হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাদের জন্য হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। ভ্যাকসিন আছে। সাপে কাটা রোগীদের ওঝার মাধ্যমে চিকিৎসা না নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার আহবান জানান তিনি।
ঢাকা, ২৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





