আগে শুধু পকেট মারলেই গণপিটুনি দেয়া হতো, এখন খাদ্যে ভেজালকারীদেরও গণপিটুনি দিতে হবে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

আজ রবিবার রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-রুয়েটের পঞ্চম সমাবর্তনে যোগ দিয়ে বিকেলে রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খাদ্য ভেজালের কারণে ক্যান্সারসহ জটিল রোগ হচ্ছে। নির্ভেজাল খাবার ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে; এখন কচু ছাড়া সব কিছুতেই ফরমালিন।

খাদ্যে ভেজাল দেয়া অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি বিশ্বের অনেক দেশ সফর করেছি। কিন্তু সেখানে কোথাও আমি খাদ্যে ভেজালের ঘটনা পাইনি, এমনকি আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও নেপালেও না।’

এ অশুভ কাজের বিরুদ্ধে গণমানুষকে সচেতন করতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী হওয়ার ও প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান।

সেই সাথে তিনি খাদ্যে ভেজালের অভিশাপ থেকে ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করতে রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও সচেতন জনগণকে এক সাথে কাজ করার তাগিদ দেন।

প্রযুক্তিকে উন্নয়নের বাহন হিসেবে আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, ‘তাই বলে প্রযুক্তির উদ্ভাবনই যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন করার মধ্যেই উদ্ভাবনের সার্থকতা। তাই যুগোপযোগী ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সবাইকে মনোনিবেশ করতে হবে। অন্যের অনুকরণ নয় বরং আমাদের যাতে অন্যরা অনুকরণ করতে পারে সে লক্ষ্যে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।’

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ প্রকৌশলী সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে দেশ যত বেশি উন্নত সে দেশ তত বেশি সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। আমাদের বিপুল মানবসম্পদ থাকা সত্ত্বেও কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্জিত না হওয়ায় আমরা আশানুরূপভাবে এগুতে পারিনি।’

রাষ্ট্রপতি হামিদ জানান, বর্তমান সরকার কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এযাবৎকালের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উন্নয়ন বাজেট প্রদান ও গবেষণা বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে।

‘বিদ্যমান সুবিধাগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুণগত উচ্চশিক্ষা প্রদানে ব্রতী হবে বলে আমার বিশ্বাস,’ যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অবকাঠামো থেকে শুরু করে শিল্প-কলকারখানা, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, মেরিন, তথ্যপ্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রকৌশলীদের ভূমিকা অনন্য। ‘বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তা বাস্তবায়নে প্রধান কারিগর হচ্ছে প্রকৌশলীরা। সুতরাং প্রকৌশলীদের স্ব স্ব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া টেক অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পরিচালক সাইফুর রহমান।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রফিকুল ইসলাম শেখ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

এএস