উপকুলীয় এলাকা পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার প্রায় ২০ হাজার পরিবার আর্সেনিক ঝুকিতে রয়েছে। আর্সেনিকযুক্ত চিহ্নিত নলকুপগুলোর পানি পান নিষিদ্ধ করা হলেও বিকল্প পানি ব্যবস্থা করা হয় নাই। ফলে উপজেলার ৩৫টি গ্রামের ২০হাজার পরিবারে এখন আর্সেনিক ঝুকিতে রযেছে। এর সাথে বেড়ে চলছে বানিপাহিত রোগির সংখ্যাও। পানি পান নিষিদ্ধ করা ওই নলকূপগুলোয় সর্তক সংকেত হিসেবে লাল রং দেওয়া প্রলেপ গত এক যূগে ধূয়ে-মুছে গেলেও নতুন করে প্রলেপ দেওয়া হয়নি। সময়ের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা ভূলে ওইসব নলকুপের পানি ব্যবহার করায় আর্সেনিকের ঝুকি আরও বেড়ে গেছে।
জানা যায়, এই উপজেলার আর্সেনিকের মাত্রা জেলার অন্য উপজেলার থেকে বেশী। আর্সেনিক মিটিগেশন ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের আওতায় একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা বালিপাড়া, পাড়েরহাট ও পত্তাশী ইউনিয়েনে এক যুগ আগে টিউবওয়েলে আর্সেনিকের ওপর পরীক্ষা- নিরীক্ষা চালায়। সে সময় ওই ইউনিয়নগুলোর ৩৫ টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধীক মানুষের কয়েক হাজার নলকূপের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া যায়। ওই পানি যাতে কেউ পান না করে, সেজন্য নলকূপগুলোর গায়ে লাল রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছিল। এর পর ওই এলাকার আর্সেনিক ঝূকিপূর্ন লাল চিহ্নিত নলকুপের পানি পানে স্থানীয়রা কিছু দিন বিরত থাকেন। কিন্তু বিকল্প পানির ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে সবাই ঝুকি জেনেও ওই সব নলকুপের পানি পান করতে থাকেন।
এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা যায়, আর্সেনিকের মাত্রা পরীক্ষা করে ১৪ টি প্রতিষ্ঠানের নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া যায়। সাথে সাথে আমরা ওই নলকূপের পানি পানের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট থাকায় পিএসএফ এর মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবে পিএসএফ এর প্রসঙ্গে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে পিএসএফ গুলো সরকারী ভাবে প্রদান করা হচ্ছে তা অত্যন্ত নিন্মমানের। এছাড়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিন্মমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করায় সল্প সময়ে অকেজ হয়ে পড়ছে এই পিএসএফ গুলো কিছু দিন পরে পিএস এফ নষ্ঠ হয়ে পড়ে থাকে। ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট থেকেই যাচ্ছে।
অপর দিকে উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ইউনিয়ন গুলোতে কোন গভীর নলকুপ নেই। দীর্ঘ কয়েক বছর পূর্বে বালিপাড়া ইউনিয়নে গভীর নলকুপ স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় পত্তাশী ও বালিপাড়ায় আর কোন গভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করা হয় নাই বলে জানা যায়।
ইন্দুরকানী উপজেলার নিবাহী অফিসার মো: নুরুল হুদা জানান বিশুদ্ধ পানির ব্যাপক সংকটে রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে উপজেলার অধিকাংশ জনগন পুকুর,খাল, নদীসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ের পানি পান করে থাকে যার কারনে প্রায়ই পানি বাহিত ও বিভিন্ন রোগের আক্রান্ত হচ্ছে।
জারিফ





