ব্রহ্মপুত্র, ধরলাসহ সবক’টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দ্বিতীয়বারের মতো কুড়িগ্রামে বন্যা হয়েছে।

বুধবার (২০ জুলাই) সরেজমিন দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্রের পানি কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, ধরলার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার মাত্র তিন সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দ্বিতীয়দফা বন্যায় জেলার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজীবপুর ও সদর উপজেলার অর্ধ শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকায় রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বন্যা দুর্গত এলাকার বেশিরভাগ নলকূপ পানিতে তলিয়ে থাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। চারণভূমি তলিয়ে থাকায় গবাদি পশু নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যা কবলিতরা। বন্যার্তদের জন্য এখনও সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

নদ-নদী তীরবর্তী চর ও দ্বীপচরের মানুষ চলতি মাসেই মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুইবার বন্যার কবলে পড়ায় দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।এদিকে, চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম জানান, উপজেলার অষ্টমিরচর, নয়ারহাট, চিলমারী, রানীগঞ্জ, রমনা ও থানারহাট ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। দুইশ’ পরিবারকে প্যাকেজ প্রোগ্রামের আওতায় ১০ কেজি করে চাল, এক কেজি করে ডাল ও এক কেজি করে লবন দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, একশ’ মেট্রিক টন চাল ও চার লাখ টাকা বরাদ্দ পেলেও তা এখনো বিতরণ করা হয়নি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার তিন সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ওএফ