দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভূক্ত দেশের জন্য সমুদ্রকে একটি বড় সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করে এই সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সার্কভূক্ত দেশের সমন্বিত গবেষণার ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ (বুধবার) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর সিটি হলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের দুই দিনের মূল পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে শেখ হাসিনা এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমাদের সমুদ্র সম্পদকে রক্ষায় সবার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একযোগে গবেষণা দরকার এবং পরস্পরের সাহায্যে এগিয়ে আসা দরকার।
সমুদ্র সম্পদ ভিত্তিক ‘ব্লু ইকোনমি’ সার্ক অঞ্চলের স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, সব জীবিত ও মৃত সমুদ্র সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা সবাই উপকৃত হতে পারি।
আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণে সবাই সম্মত হয়েছে তার দ্রুত বাস্তবায়নে সার্ক নেতাদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ এখন ফল দেখতে চায়।
পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এখনো যেসব ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা রয়েছে তা কমিয়ে আনতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ দরকার বলেও মত দেন শেখ হাসিনা।
সার্ককে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার এই আট দেশের আশাবাদী হবার অনেক দিক রয়েছে এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা এই অঞ্চলের উন্নয়নে আঞ্চলিক যোগাযোগ (Connectivity) এবং যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত রুপরেখা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিগত ৪ বছরেই বাংলাদেশের মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারের মাত্রা বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ এবং শুধুমাত্র গ্রামের মানুষকে তথ্য-প্রযুক্তি সেবা দিতেই ২০০ আইসিটি কেন্দ্র কাজ করছে।এছাড়া দেশে ৫২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার, ১৩৫০০ আইটি সুবিধাযুক্ত কমিউনিটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক কাজ করছে।
জলবায়ুর পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, শুধু বাংলাদেশই নয় দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের বেলায় এটা একইভাবে প্রযোজ্য। তাই জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলায় সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
দারিদ্রকে সার্ক অঞ্চলের সব দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির পথে প্রধান বাধা হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী এই বাধা মোকাবেলায় একযোগে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের সত্যিকারের উন্নতির জন্য সার্ক নেতাদের মতপার্থক্য ভুলে একসাথে কাজ করতে হবে।
তিনি সার্ক নেতাদের আরও বাস্তবিক, ফলপ্রসূ এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতার জন্য কাজ করার আহবান জানান। এজন্য তিনি সর্বত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সদ্ব্যবহারের ওপরও জোর দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি হার ৬.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে যেখানে দারিদ্রতার হার ছিল ৪০ শতাংশ, এখন তা কমে ২৪.৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে দেশে গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত মেয়েরা বিনা খরচে পড়াশুনা করতে পারছে। বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখ গরীব শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে, যার ৭৫ শতাংশই নারী।
তিনি স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য এবং জলবায়ুর পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি নিয়ে আরও গভীর পারস্পরিক সহযোগিতার আহবান জানান সার্ক নেতাদের।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতকে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে এই খাতের উন্নয়নে সার্কভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা।
তিনি ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে বলেন বর্তমান সরকার এই লক্ষ্যে কাজ করছে এবং এই লক্ষ্য পূরণে তিনি সার্কভূক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন।
বর্তমানে দেশে ৩০ লাখের ওপর সোলার হাউজ সিস্টেম কাজ করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উন্নতি করছে।
প্রধানমন্ত্রী নারীদের ক্ষমতায়নসহ তাদের উন্নয়নে বাংলাদেশ একটি মাইলফলক অবস্থানে পৌছে গেছে দাবি করে নারীর ক্ষমতায়নে সরকার আরও জোরালোভাবে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
সার্কের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে এবং এই সংস্থাকে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং সার্কভূক্ত আট দেশের মানুষের উন্নতি কামনা করে শেখ হাসিনা তার বক্তব্য শেষ করেন।
কাঠমান্ডুর মিডিয়া সেন্টার থেকে





