মেহেরপুরের হাট বাজারে এখন আর দেখা যায় না দেশীয় ছোট মাছ। আগে যেখানে জমজমাট হাট বসতো দেশীয় মাছের সেখানে এখন জেলার বাহির থেকে মাছ এনে ঘাটতি পূরন করতে হয়।

তাই হাট-বাজারে চলছে দেশীয় মাছের আকাল।নানা মূখী কারনে হারিয়ে যাচ্ছে মেহেরপুরের দেশী মাছ।

এক সময় মেহেরপুরের বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা থেকে দেশী প্রজাতির বাইম, মাগুর, কই, শৈল, বোয়াল, বেলে, চান্দা, পটকা, পুঁটি, টেংরা, আইড়, কাল বাউস, বাঁশ পাতা, পাতাশী, চেলা, ডাড়কি, চ্যাং, চান্দা, ভ্যাদা, টাকীসহ অসংখ্য মাছ পাওয়া যেত। যা এলাকার চাহিদা মিটিয়েও জেলেরা নিকটবর্তী জেলাগুলোতে বিক্রি করে রোজগার করতেন।

অনুকূল পরিবেশের অভাব, নদ-নদী জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশী মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। জেলার ৬টি নদ-নদী ও ৪২টি খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় এখন সেসব জায়গায় ধান চাষ করা হচ্ছে। জেলার অনেক ডোবা পুকুর ভরাট করে পাকা দালান নির্মাণ করা হয়েছে। আরও নির্মাণ কাজ চলছে। ফলে মৎস্য চাষের প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসছে।

ফলে প্রতি বছর জেলার চাহিদার প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ মাছের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। এলাকাগুলোতে অধিক পরিমাণে অভয়াশ্রম তৈরি করা গেলে বিলুপ্তপ্রায় দেশী প্রজাতির মাছের বংশ বিস্তারের পাশাপাশি ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

মেহেরপুরে দুইটি নদী রয়েছে।নদী দুইটির নাম হলো ভৈরব নদও কাজলা নদী। এ নদী দুটিসহ এলাকার বিলগুলোতে এখন দেশী মাছ প্রায় শূন্য। বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার, কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার, নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাস, কৃষি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ইত্যাদি কারণে মাছশূন্য হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন কীটনাশক দিয়ে মাছ ধরার কারণেও এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবী করেছেন মৎসজীবী ভক্ত হালদার। এতে মাছ উৎপাদনের প্রজণন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে মেহেরপুরের নদ-নদী ও খাল-বিলসহ পুকুরগুলোও একেবারে দেশী মাছশূন্য হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেজবাউল হক বলেন, মাছের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা, প্রজণনক্ষেত্র নষ্ট হয়ে যাওয়া ও বিষ প্রয়োগ করায় মৎস্য সম্পদের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে, যা অসচেতন মানুষ ও জেলেরা বুঝতে পারছে না।

ইআর