চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় কলেজ থেকে এক ছাত্রীকে তুলে পাহাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করেছে সহপাঠীসহ ২ যুবক। এসময় আরেক সহপাঠীসহ ৩ জন ঘটনাস্থলে ছিল। তারা ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলের ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য তা মেমোরি কার্ডে সংরক্ষণ করেছে।
৫ বখাটের কর্মকাণ্ড জানতে পেরে ওই ছাত্রীর পরিবার এবং এলাকার লোকজন মিলে মেমোরি কার্ডটি উদ্ধার করেছে। পুলিশ শুক্রবার রাতে ধর্ষণের মূল হোতা বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজের ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এ আর খানকে (১৯) আটক করেছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম এমরান ভূঁইয়া ধর্ষণের ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন আছে।
ছাত্রীর পরিবার এবং এলাকার লোকজনের সূত্রে জানা গেছে, ১০ জুন বিকালে ক্লাশ শেষে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল উপজেলার বাণীগ্রামের দরিদ্র কৃষকের সন্তান কলেজের ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী। কলেজ কম্পাউন্ড থেকে বের হবার পর একই ক্লাশের ছাত্র এ আর খানের নেতৃত্বে ৫ বখাটে তাকে জোরপূর্বক পাশের পাহাড়ে নিয়ে যায়।
সেখানে দুর্গম জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে তাকে এ আর রহমানসহ ২ জন মিলে ধর্ষণ করে এবং ৩ জন মিলে তা ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করে। এরপর মেয়েটিকে আর কোনদিন কলেজে না আসার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয় বখাটেরা।
ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মেয়েটি বাড়ি ফিরে এলেও ঘটনাটি কাউকে জানায়নি। বখাটেদের মুখ থেকে বিষয়টি কলেজের আশপাশের এলাকায় প্রচার হয়ে যায়। এরপর মেয়েটির পরিবারের লোকজনও বিষয়টি জানতে পারে।
পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বখাটেদের কাছ থেকে মেমোরি কার্ডটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তারা বিষয়টি থানাকে অবহিত করে। ১২ জুন মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
মামলা দায়েরের আগে পুলিশ শুক্রবার রাতে বাঁশখালী উপজেলার গুণাগরি গ্রামে এ আর খানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, মেমোরি কার্ডটি দ্রুত উদ্ধার সম্ভব হওয়ায় বখাটেরা ধর্ষণের দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়াতে পারেনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪ জনের পরিচয় পুলিশের কাছে আছে। বাকি একজনের পরিচয় জানতে পুলিশ এ আর খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
ঢাকা, ২১ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





