লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে কালীরস্থান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ২ মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারী কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে চলছে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান।
সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, গত মে মাসে আকস্মিক ঝড়ে বিদ্যালয়টির দু’টি শ্রেনীকক্ষের টিনের ঘড় বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এরপর থেকে সেখানেই চলে আসছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। রমজান ও পবিত্র ঈদ-উল ফিতর ছুটি শেষে গত শনিবার থেকে বিদ্যালয়টির ক্লাস পুনরায় শুরু হয়। এরপর বিপাকে পড়েন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা। তাদের অন্যত্র পাঠদানের সুযোগ না থাকায় রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে পাঠদান। প্রচন্ড দাপদাহে শিক্ষার্থীদের শরীর থেকে পানি ঝড়লেও পাঠদান থেমে থাকেনি।
৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র নুর হোসেন, নুরুজ্জামান, ছাত্রী রোকেয়া খাতুন ও জান্নাতুল ফেরদৌসি জানান, এভাবে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে আর কতদিন আমরা ক্লাস করব। বিদ্যালয়টি দ্রুত মেরামতের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বিদ্যালয় সুত্রে জানাগেছে, কালীরস্থান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ২০০০ সালে স্থাপিত হয়। ২০০৪ সালে পাঠদানের অনুমতি পায় আর ২০১১ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২১৭ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন। ২০১৫ সালে জেএসসি পরীক্ষায় ৪৭ জন অংশগ্রহণ করে ৩৭ জন পাস করেছেন। ২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষায় ৪৬ জনের মধ্যে ২ জন এ প্লাসসহ ৪১ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ বছর ৫৩ জন জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন বলে জানাগেছে।
প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টি ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এভাবেই চলছে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান।
আদিতমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম আরিফ মাহফুজ বলেন, বিষয়টি প্রধান শিক্ষক অবগত করায় উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে জানানো হয়েছে। শীঘ্রই বিদ্যালয়টি মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে।
নুরনবী/এমই





