মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামে বিশাল শোভাযাত্রাসহ বর্ণাঢ্য র্যালীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর শাখা।
র্যালী পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম বলেন যে মহান উদ্দেশ্যে এদেশের মুক্তিকামী জনতা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে পাক বাহিনীর শোষন, নির্যাতন, নিপীড়ন থেকে এ জাতিকে মুক্ত করেছিলেন তার সুফল আমরা এখনো পাইনি।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দিতেই অবৈধভাবে বিনা ভোটে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বিরোধী দল নিঃশেষ করার ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। তারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে প্রতিদিন মেধাবী ছাত্রদের গুম, খুন ও হত্যা করে যাচ্ছে।
জনগনের কথা বলার ন্যূনতম মৌলিক অধিকার থেকে আজ দেশবাসী বঞ্চিত। শিক্ষাঙ্গনে তাদের দলীয় সোনার ছেলেদের নানা অপকর্মের কারণে ছাত্রদের শিক্ষাজীবন বিপর্যস্ত, বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তিনি সরকারের এ ধরণের কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর থেকে দেশকে রক্ষা করতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান।
নগর উত্তর সেক্রেটারী এস কে সিকদার’র পরিচালনায় এতে আরো উপস্থিত ছিলেন শিবির নেতা আ স ম রায়হান, কামাল হোসাইন, এম এস আমীন, আবু জোবায়ের প্রমুখ। নগরীর রাহাত্তারপুল থেকে শুরু হয়ে র্যালিটি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে বহদ্দারহাট মোড় এলাকায় গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
নগর উত্তর শিবিরের নিন্দা ও প্রতিবাদঃ
মহান বিজয় দিবস উদযাপন র্যালীতে পুলিশ-ছাত্রলীগের যৌথ হামলা ও এটিকে পুঁজি করে মিথ্যা সংবাদ প্রচারণার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর সভাপতি তৌাহদুল ইসলাম ও সেক্রেটারী এস কে সিকদার।
৪৬তম মহান বিজয় দিবস উদযাপনে সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর লালদিঘী মোড় এলাকা থেকে শান্তিপূর্ণ র্যালী বের করে। বর্ণাঢ্য র্যালী শুরু হওয়া মাত্র পেছন থেকে বিনা উস্কানীতে পুলিশ- ছাত্রলীগ যৌথ হামলা চালায়। তাদের হামলায় অর্ধ শতাধিক নিরপরাধ ছাত্র আহত ও ২৪ জনকে আটক করা হয়।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, পুলিশ কর্তার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে শহীদ মিনারে নাশকতার পরিকল্পনার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও একেবারে হাস্যকর। কেননা র্যালী শুরু হয়ে আন্দরকিল্লা অভিমুখে আগানো মাত্রই পেছন দিকে পুলিশ-ছাত্রলীগ লাঠিচার্জ, ফাঁকা গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে তা ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
তাদের যৌথ হামলায় সেখানে র্যালী করতে না পেরে রাহাত্তারপুল এলাকায় পুনরায় বিজয় র্যালী বের করা হয়। শান্তিপূর্ণ বিজয় দিবসের র্যালীতে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রলীগ নামধারী সোনার ছেলেরা হামলা চালালেও উল্টো ছাত্রশিবিরের নিরপরাধ কর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হাস্যকর অভিযোগ করার মাধ্যমে গণমাধ্যমে শিরোনাম হবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
যা প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে তাদের কাছ থেকে শান্তিপ্রিয় জনতা কেউ আশা করে না। নেতৃবৃন্দ আটককৃত নিরপরাধ ছাত্রদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী এবং এ ধরণের মিথ্যা, ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এএস





