বর্ষাকালে মানুষের চলাচল সহজ করতে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে বাজিতপুরের আচানপুর ঘাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার ডুবো (সাবমার্সেবল) সড়কের নির্মাণকাজ।২০১৪ সালে শুরু হয় সেতু নির্মাণ কাজ।চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সেতু দু'টির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।কিন্তু শেষ হবে কি ?


একইসঙ্গে সড়কের তিন স্থানে তিনটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিশোরগঞ্জের হাওরবাসী আশায় বুক বেঁধেছিলেন তাদের যোগাযোগ দুর্দশা বুঝি লাঘব হতে চললো!

এমনকি হাওর এলাকার বাসিন্দা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পর্যন্ত এ সড়কের মাধ্যমে এলাকার মানুষের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে বহুল আকাঙ্ক্ষিত ওই সড়কের দুইটি নির্মাণাধীন সেতু এখন হয়ে উঠেছে অষ্টগ্রামবাসীর দুঃখ।

সরেজমিন দেখা যায়, নির্মাণাধীন সেতু দু'টি একটির কাজ প্রায় শেষ ও অপরটির কাজ অর্ধেকের মতো হয়েছে। কিন্তু এরপর থেকে কাজের তেমন অগ্রগতি নেই।

স্থানীয়দের আশঙ্কা এভাবে থাকলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সেতুর ব্লক ভেঙে নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে সেতু দু'টির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অষ্টগ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা মিয়া জানান, ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর অষ্টগ্রাম পাইলট উচ্চ মাঠে নাগরিক সমাবেশে রাষ্ট্রপতি সড়কপথে হাওর থেকে ঢাকা যাতায়াতের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এ এলাকার উন্নয়নের কথা বলেছিলেন, কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে রাষ্ট্রপতির স্বপ্ন ও আশ্বাস বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে অষ্টগ্রাম থেকে বাজিতপুরের আচানপুর ঘাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার ডুবো সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এ সড়ক দিয়ে বছরের অন্তত সাত/আট মাস অষ্টগ্রাম উপজেলার মানুষ কম সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করতে পারবে। এ লক্ষ্যে সড়কের কাজ এগুতে থাকে। তিনটি সেতুসহ ওই সড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১২৬ কোটি টাকা।

সড়ক ও তিনটি সেতুর কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে পায় এসইএল, এমবিইএল ও জেআই জয়েন্ট ভেঞ্চার লিমিটেড। কিন্তু কাজটি শুরু করে ঢাকার গুলশান-দুই এর এক্সপেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

পুরো সড়ক ও একটি সেতুর কাজ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সড়কের চুবুরের ভাঙ্গা খাল ও কারানল খালের ওপরের সেতু দু'টির কাজ শেষ না হওয়ায় সড়কটি চালু করা যাচ্ছে না।

চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সেতু দু'টির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

চুবুরের ভাঙ্গা খালের ওপর ও কারানল খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতু দু'টির পূর্বে পাশের ব্লকগুলোতে (পাটাতন) ফাটল ধরেছে। ফলে বেশকিছু ব্লক খালের পানির নিচে চলে গেছে। সেগুলো টিকিয়ে রাখতে ফাটল ধরা জায়গায় বালুভর্তি বস্তা দেওয়া হয়েছে। এতে সেতু দু’টি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

ওই সেতুর নির্মাণ শ্রমিক আলম মিয়া বলেন, ব্লকগুলো সরে যাওয়ায় সেখানে বালুভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে। কিন্তু বালুর বস্তাগুলো সরে গেলে সেতু থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।


এ বিষয়ে এক্সপেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার সুশান্ত কুমার সরকার জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে ব্লকগুলোর স্থানে বালুভর্তি বস্তা দিয়ে আপাতত সেতু দু'টির পূর্বপাশ টিকিয়ে রেখেছে।

কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সেতু দু'টির কিছু ব্লক সরে গেছে। তবে এখনও অনেক ব্লক থাকায় সেতুর কোনো সমস্যা হবে না।

 

এইচ ই