নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটে খুলনা অঞ্চলে খুলনাঞ্চলে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে খুলনা ও মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজও।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১১ দফা দাবি আদায়ের জন্য নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট শুরু করে।

এরই অংশ হিসেবে মোংলা বন্দর চ্যানেলের পশুর নদীর বিভিন্ন অংশে অবস্থান নিয়েছে কয়েকশ লাইটার জাহাজ। ফলে লাইটার সংকটের কারণে বন্দরের বহিনোঙ্গরে অবস্থানরত ২৭টি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে পড়েছে।

অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের ফলে খুলনার বিআইডব্লিউটিএর ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এবং রুজভেল্ট জেটিতে অবস্থানরত কোনো জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয়নি। এছাড়া খুলনা লঞ্চঘাট থেকে কোনো নৌযান ছেড়ে যায়নি বা আসেনি। এমনকি মোংলা বন্দর থেকে যশোরের নওয়াপাড়া পর্যন্ত কোথাও কোনো নৌযান চলছে না। ফলে এসব ঘাটে ছোট-বড় প্রায় ৭ শতাধিক নৌযান নোঙর ফেলে অবস্থান করছে পণ্য ওঠানামার জন্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা ও যশোরের নওয়াপাড়ার কার্গো বার্জ থেকে পণ্য নেওয়ার জন্য শত শত ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকলেও নৌযান শ্রমিকরা কাজ না করায় শিল্পনগরী খুলনা ও মোংলা বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য বন্দরের জেটিতে আনা-নেওয়া এবং বন্দর থেকে নৌপথে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পরিবহন বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে মোংলা বন্দরে ধর্মঘটের কারণে এখান থেকে সারাদেশে প্রধানত নদীপথে পণ্য পরিবহন কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

নৌযান শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, এবার তারা কোনও প্রকার আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন না। কেবল দাবি আদায় হলেই প্রত্যাহার করা হবে। ধর্মঘটের ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত নৌযান ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন তারা।

১১ দফা দাবি হলো– ১. বাল্কহেডসহ সব নৌযান ও নৌপথে চাঁদাবাজি, ডাকাতি বন্ধ করা; ২. ২০১৬ সালে ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নৌযানের সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন দেওয়া; ৩. ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস এবং মালিক কর্তৃক খাদ্য ভাতা দেওয়া; ৪. সব নৌযান শ্রমিকের সমুদ্র ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ; ৫. এনড্রোস, ইনচার্জ, টেকনিক্যাল ভাতা পুনর্নির্ধারণ; ৬. কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ; ৭. প্রত্যেক নৌশ্রমিককে মালিক কর্তৃক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক দেওয়া; ৮. নদীর নাব্যতা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন; ৯. মাস্টার/ড্রাইভার পরীক্ষা, সনদ বিতরণ ও সনদ নবায়ন, বেআইনি নৌচলাচল বন্ধ করা; ১০. নৌপরিবহন অধিদফতরে সব ধরনের অনিয়ম ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ এবং ১১. নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার ফখর উদ্দিন জানান, নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে বন্দরের পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে বন্দরে জাহাজ জট দেখা দিবে। আর কাঁচামাল সংকটে পড়বে বন্দরের শিল্পাঞ্চলের প্রায় ২০টির অধিক কারখানায়।

এমএম