ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সকল স্থাপনায় প্লাস্টিকের তৈরি ডিজিটাল হোল্ডিং নম্বর বসানো ও জরিপের নামে চলছে লোপাট। রাজধানীতে প্রায় ১০ লাখ প্লাস্টিকের ডিজিটাল নম্বরপ্লেট বসানোর কাজটি করছে সরকার সমর্থিত ৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, এ ৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কৌশলে নগরবাসীর পকেট হাতিয়ে কয়েক কোটি টাকা নেয়ার শক্ত মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে প্রতিটি প্লাস্টিকের তৈরি নম্বর প্লেটের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬২ টাকা। আর ঢাকা উত্তরে প্রতিটি প্লেটের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭০ টাকা করে। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষ ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করেও নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, গত ২১.জুলাই ঢাকা দক্ষিণের তৎকালীন প্রশাসক মোঃ ইব্রাহীম হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে প্লাস্টিকের ডিজিটাল নম্বরনেমপ্লেট স্থাপন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। আর এ কাজটি দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংগঠন বাস্তবায়নকারী সংস্থা প্রত্যাশা সমাজ উন্নয়ন সংঘকে। ডিএসসিসির সাবেক প্রশাসক নগরবাসীর পকেট হাতিয়ে কয়েক প্রতিটি প্লাস্টিকের নম্বরপ্লেটের মূল্য ৩৬২ টাকা হিসেবে কয়েক কোটি টাকা নেয়ার সুযোগ করে দেন। রাজস্ব আয় বৃদ্ধির খোঁড়া অজুহাতে এ কার্যক্রমের অনুমোদন দেয়া হয়।

তার সঙ্গে সুরমিলিয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনছার আলী খান বলেন, হোল্ডিং কাউন্ট ও ডিজিটাল নম্বর প্লেট বসানো কার্যক্রম শেষ হলে সংস্থার প্রতিটি হোল্ডিংকে এ গণনা কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। এক বছরের মধ্যে হোল্ডিং গননা ও ডিজিটাল নেমপ্লেট বসানো কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানান ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল হক।

এদিকে গত ৮ ডিসেম্বর ডিএনসিসি'র তৎকালীন প্রশাসক মো. ফারুক জলীল হোল্ডিং গণনা ও নম্বর প্লেট স্থাপনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। তিনি সরকার সমর্থিত এবং ঢাকা দক্ষিণের সাবেক প্রশাসক ইব্রাহিম হোসেন খানের আত্মীয়-স্বজনকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদেরকে প্রতিটি প্লাস্টিকের নম্বর প্লেটের জন্য ৩৭০ টাকা করে দিতে নগরবাসীকে বলা হয়েছে।

ডিএনসিসি'র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশা সমাজ উন্নয়ন সংঘের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর, সুসমাজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মুজিব উদ দৌলা সরদার, রেডির নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম, ডিজিটালটেকের নির্বাহী পরিচালক মো. সাফকত উল্ল্যাহ প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল।

প্রশাসক মো. ফারুক জলীল বলেন, ডিএনসিসিতে ১ লাখ ৬৪ হাজার হোল্ডিং রয়েছে। তবে  হোল্ডিং গণনায় এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে সংস্থার রাজস্ব আয় বাড়বে।

তিনি বলেন, ৩টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশা সমাজ উন্নয়ন সংঘ, সুসমাজ ফাউন্ডেশন ও রেডি এবং ডিজিটালটেকে ৩ মাসের মধ্যে হোল্ডিং গণনা কার্যক্রম শেষ করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি বাড়ির হোল্ডিং নম্বরের পাশাপাশি প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্যও সাব-হোল্ডিং নম্বর দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

একে/কেএইচ