পাবনার ৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন কেলেংকারী ধামাচাপা দিতে অবশেষে কেন্দ্র সচিবকে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছে।

সুত্র জানায় পাবনা জেলা স্কুল ও পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর ৩য় শ্রেণিতে এবং কৃষ্ণপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ২১ ডিসেম্বর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ভর্তি পরীক্ষায় ৩য় শ্রেনিতে যে প্রশ্ন পত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় তা ১৫ দিন আগে ফেয়ার কোচিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সাথে মিল পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে ২৩ এবং ২৪ ডিসেম্বর বেশ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

পরীক্ষা বাতিল করা দাবীতে ২৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে পাবনার কয়েকশত অভিভাবক জেলা প্রশাসকের বাসভবন ঘেড়াও করে এবং আব্দুল হামিদ রোডে মানববন্ধন করে। এ ঘটনায় ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে পাবনা জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো তার কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

সেখানে ফেয়ার কোচিং সেন্টারের পরিচালক মোতালেবকে হাজির করলে মোতালেব জানান, তিনি পরীক্ষা শেষে ফটোকপির দোকান থেকে একটি অস্পস্ট প্রশ্নপত্র নিয়ে পুনরায় কম্পোজ করেছেন। তিনি যে প্রশ্নটি কম্পোজ করেছেন তার উপরে সাদা রেখে একটু নিচে “সাপ্তাহিক পরীক্ষা” লেখা রয়েছে।

এর পর থেকে বাকী প্রশ্নগুলো হুবুহু জেলা প্রশাসনের ভর্তি কমটির দেওয়া প্রশ্নপত্রের সাথে হুবহু মিল রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের দোষ আড়াল করতে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব পাবনা জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার দেবকে ২৬ ডিসেম্বর শাস্তিমুলক বদলী করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে পাবনার অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

একটি সুত্র জানায়,২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুশান্ত কুমার দেব পাবনা জেলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেব যোগদান করেন। তার যোগদানের পর প্রত্যেক মাসের ৩ দিন বেতনের ডেটে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এমনকি পিএসসি,জেএসসি এবং এস,এস,সি পরীক্ষা চলাকালীর সময়েও অন্যান্য ক্লাসের ছাত্রদের ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি স্কুল ফান্ড থেকে স্কুলের মধ্যে অবস্থিত মসজিদের মেরামত কাজ,অভিভাবকদের বসার জন্য টিন সেড, শহীদ মিনার, ফুলের বাগান, স্কুল গেটের দুপাশে টাইলস মুর‌্যাল, প্রধান শিক্ষকের কক্ষের বাথরুমসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন।

পাবনার অভিজ্ঞ মহল মনে করেন উন্নয়নশীল, দক্ষ ও যোগ্যতা সম্পন্ন্য ব্যক্তিকে বিনাকারনে শাস্তিমূলক বদলী করায় পাবনা জেলা স্কুলের লেখা পড়ার ক্ষেত্রে একটি অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। পাবনাবাসী মনে করেন প্রশ্ন কেলেংকারীর সাথে প্রকৃত দোষীদের বিচারের কাঠগড়ায় না এনে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া উচিত হয়নি।

রাকবুল/এআই