কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বিপুলাসারে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় অন্তত ২৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদের মধ্যে দশম শ্রেণির এমরান ও সুজিত নামের দুই ছাত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদের একজন কুমিল্লা ও অন্য জনকে নোয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
গত সোমবার বিপুলাসার আহাম্মদ উল্ল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল কমিটি ও শিক্ষকদের মাঝে কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করে জানিয়েছে, সোমবার স্কুল শিক্ষকদের সঙ্গে উক্ত স্কুল কমিটির সদস্য ও যুবলীগ নেতা মোরশেদের কথা কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে তিনি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের স্কুলে ডেকে আনলে ছাত্রলীগ নেতা কিরণ স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেদম মারধর করে।
এ খবর গোটা স্কুলে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠে এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে ও আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল ত্যাগের নির্দেশ দেন শিক্ষাকরা।
পরে ছাত্রছাত্রীরা নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে কাঠ, লোহার রড ও বিভিন্ন দেশীয় অস্র নিয়ে যুবলীগ নেতা মোরশেদ ও ইকবালের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে দশম শ্রেণির সুজিত ও এমরান নামের দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়।
এছাড়া দশম শ্রেণির অন্তর,সাইফুল,শিমুল, ৬ষ্ঠ শ্রেণির রবিণসহ বিভিন্ন শ্রেণির কমপক্ষে ২৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে দাবি অভিভাবকদের।
হামলায় কিরণ, হিরন, হেলাল, শামসুসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগ নামধারী আরো বেশ কয়েকজনকে দেখা গেছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
গুরুতর আহত এমরানের ভাই আরিফুর রহমান দাবি করেছেন, তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মর্মাহত। এ হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরণের হামলার কথা কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু আমাদের সামনেই আমাদের ছাত্রদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে থাকা বেশ কিছু সন্ত্রাসী। আমরা ছাত্রদের রক্ষা করতে পারিনি বলেই কেঁদে ফেলেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের নম্বরে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসনের নম্বরে ফোন করা হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এএস





