সিএনজির দাম বাড়ালে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফিলিং স্টেশন বন্ধের হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি ও সিএনজির মূল্য বৃদ্ধি থামাও’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সংগঠনের সভাপতি মাসুদ খান এই হুমকি দেন। অনুষ্ঠানে পরিবহন ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পরিবহন নেতা এবং বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই মুহূর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানো ঠিক হবে না। বঙ্গোপসাগরে গ্যাসকূপ অনুসন্ধানে বাপেক্সকে কাজে লাগানো দরকার।
বক্তারা বলেন, সরকারের ভেতরে একটি মহল পরিবহন সেক্টরে অশান্তি সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করেছে। তারা এখন পাঁয়তারা করছে সিএনজির মূল্যবৃদ্ধির। এই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন পরিবহন ভাড়া বাড়বে অন্যদিকে পণ্য আনা নেওয়ার ভাড়া হবে দিগুণ। যা সাধারণ মানুষের ওপর বর্তাবে। সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়বে। অর্থনীতিতে আসবে বড় রকমের ধাক্কা।
বক্তারা আরো বলেন, গত সেপ্টেম্বরে সিএনজির মূল্য ২৬ শতাংশ বাড়ানোয় পরিবহন ভাড়া প্রায় দেড়গুণ বেড়েছে। এবার বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৩ শতাংশ। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পরিবহন ভাড়া আবার বেড়ে দ্বিগুণের বেশি দাঁড়াবে। একইসঙ্গে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে পণ্যর দামও বাড়বে।
গ্যাসের দাম বাড়াতে গত মার্চে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায় গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো। তাদের প্রস্তাবের ওপর আগামী ৭ থেকে ১৮ অগাস্ট গণশুনানি হবে। অনেক সময় দেখা যায় গণশুনানিতে মূল্যবৃদ্ধির বিরোধীতা করা হলেও দাম বাড়ানো হয়।
অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, ‘এতে দেশীয় সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। তাই দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারকে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘সরকার যেভাবে দাম বাড়াতে চাচ্ছে তা যৌক্তিক নয়। অপরিকল্পিত ব্যয়ের বোঝা জনগণ কেন বহন করবে।’ বঙ্গোপসাগরে গ্যাস কূপ অনুসন্ধানে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে কূপ খননে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানি বাপেক্স-এর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এম এম আকাশের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম, ঢাকা মেট্রোপলিটন সিএনজি অটোরিক্সা ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বরকত উল্লাহ ভুলু।
এমবি





