যশোর মণিরামপুরে বাণিজ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে ফাতেমা সুলতানা নামের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপজেলা কন্ট্রোলর অব ফুড (ইউসিএফ) এর অর্থ-বাণিজ্য করার অভিযোগ।

এমন অভিযোগে পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশের পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ডিলার, মিলার,ব্যাবস্যায়ীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মচারীরা। তবে ইউসিএফ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন।

অভিযোগে ভিত্তেতে ইতোমধ্যে এ ঘটনার অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিন যাবত মণিরামপুর উপজেলা কন্ট্রোলর অব ফুড (ইউসিএফ) ফাতেমা সুলতানা বাণিজ্যমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করেন।

উৎকোচ ছাড়া তার টেবিল থেকে কোন ফাইল ছাড়া পায় না। সরকারের ১০ টাকা দরের ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সরবরাহ প্রকল্পেরও ভাগ বসান এই অসাধু কর্মকর্তা। ওই প্রকল্পের ডিলারদের ডিও প্রদানে অনৈতিক সুধিবা গ্রহণ করে তিনি রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এছাড়া তিনি চালকল মিলার, ডিলার ও ফুডগ্রেন লাইসেন্সে বাবদ অবৈধ উপায়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করে যাচ্ছেন। কেউ টাকা দিতে অস্বীর করলে বাণিজ্যমন্ত্রী অত্মীয় পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতিও দেখান।

আর এমন অনৈতিক অপকর্ম চালাচ্ছে পিতার মুক্তিযোদ্ধার খেতাবটি ‘ঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করে। ''আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান‍‌‌‍‍‍‌‌‌‌"। ‌‌‌‌‌‌‌‌তার পিতা দেশের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলচ্ছে বলে দাবি করেন।

এক সূত্র জানা যায়, ফাতেমা সুলতানা এসব অনৈতিক অর্থ আদায়ের বিষয় নিয়ে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বেশামাল হয়ে পড়েন ফাতেমা সুলতানা। তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তার নানা অপকর্মের স্বাক্ষী হিসাবে পরিচিত জগদীশ দাসকে দিয়ে স্থানীয় একটি পত্রিকায় তার পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়ে প্রতিবাদ ছাপিয়েছেন। ওই প্রতিবাদের কপি তিনি দপ্তরে পাঠিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

পত্রিকায় ছাপানো ওই প্রতিবাদলিপিতে মণিরামপুরের ৪ জন মিলারের নাম উল্লেখ্য করা হলেও তার মধ্যে জগদীশ দাস ও শহিদুল ইসলামের কোন মিল নেই। বাকি মতিয়ার রহমান ও অষ্টম দাস মিলার হলেও তারা ওই প্রতিবাদের কোন বিষয় জানেন না। এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, মিলার অষ্টম দাস বলেন, ‘তিনি ইউসিএফের পক্ষে কোন পত্রিকায় প্রতিবাদ ছাপার ব্যাপারে জানেন না।একই কথা বলে অপর মিলার মতিয়ার রহমানও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় জুড়ানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশ্যপ্রহরী জগদীশ দাস ইউসিএফের নিযুক্ত দালাল হিসাবে পরিচিত। ইউসিএফের পক্ষে ব্যবসীয়, মিলার ও ডিলারের কাছ থেকে অবৈধ টাকা আদায়ের বিষয়টি তিনিই সম্পাদন করে থাকেন। মিলার না হলে নিজেকে মিলার পরিচয় দিয়ে তিনি সারা দিন ইউসিএফের অফিস ও ফুড গোডাউনে অবস্থান করার অভিযোগ এসে সে।

সম্প্রতি মণিরামপুরের ফুড গোডাউনের ইনর্চাজ মিনারুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তার অবর্তমানে প্রায় ৩০ টন খাদ্য গোউন থেকে গোপনে জগদীশ দাসের সহযোগিতায় বিক্রি করে দেন ইউসিএফ। তখন সাময়িকভাবে যশোরের এক কর্মকর্তাকে গুদামের চার্জ দেওয়া হলেও গুদাম এবং ইউসিএফের অফিস পাশাপাশি হওয়ায় মুল দায়িক্ত ফাতেমা সুলতানাই পালন করেন। তখন ওই খাদ্য বিক্রির অবৈধ বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে আমন সংগ্রহ ও হতদরিদ্রদের চাল হতে বিশেষ কায়দায় তা পূরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফাতেমা সুলতানার পাশাপাশি জগদীশ দাসের আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। ৭/৮ লাখ টাকার বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ ছাড়াও জগদীশ দাস এখন লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জগদীশ দাস। বলেন, ‘আপনারা যা খুশি লেখেন।’ মিলারদের নাম ব্যাবহার করে ইউসিএফের পক্ষে পত্রিকায় সাফাই প্রতিবাদ ছাপানোর বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আরও রাগন্বিত স্বরে ‘রাখেন’ বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সুলতানার ইউসিএফের দুর্নীতি ছাড়াও নামে বেনামে থাকা সম্পদের খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টসুত্রে জানা গেছে।মণিরামপুরে ব্যবসায়ীরা সঠিক তদন্ত করে ক্ষমতাধর এই অসাধু কর্মকর্তার দৃষ্টান্তুমুলক শাস্তিুর দাবি জানিয়েছেন।

তারেক/এএস