মহানগরের হাজীগঞ্জ এলাকার তারা মিয়ার ছেলে সজিবের সঙ্গে সোহানার প্রেমের সম্পর্ক পাঁচ বছরের। আর শুক্রবার সেই সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায় রূপায়ণ হোটেলে।
মুন্সিগঞ্জ জেলার পাঁচঘরিয়াকান্দির রফিক মিয়ার ছেলে আকাশের সঙ্গে মানিকনগর এলাকার জয়নাল আবেদীনের মেয়ে ডলি আক্তারের প্রেম দীর্ঘ দিনের। একই দিন তাদের সম্পর্কের পরিণয় হয়েছে। তবে শুভ হয়নি এ যুগলের পরিণয়।
পরিণয়ের সময় তাদের পরিবারের লোকজন উপস্থিত থাকলেও বিয়ের আসরের পরিবর্তে ছিল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়। আর বরযাত্রীর ভূমিকায় ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর হাজীগঞ্জ তল্লা এলাকার বেনু মিয়ার ছেলে সজীব তার প্রেমিকা সোহানাকে নিয়ে কেন্দ্রীয় বাস টারমিনাল এলাকায় অবস্থিত রূপায়ণ নামে একটি আবাসিক হোটেলে গিয়ে ছিলেন গোপন অভিসারে।
ওই সময় একই হোটেলে ছিলেন মুন্সিগঞ্জের প্রেমিক যুগল আকাশ ও ডলি। কিন্তু বিপত্তি ঘটায় বেরসিক ভ্রাম্যমাণ আদালত। যার নেতৃত্বে ছিলেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা গাউছুল আজম।
আবাসিক হোটেলটিতে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ৫ জন বারবনিতা, খদ্দের, হোটেল কর্মচারীসহ মোট ১৬ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। যাদের মধ্যে এই প্রেমিক যুগলও রয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে ৫ বারবনিতাকে এক হাজার টাকা, খদ্দের মাসুদকে ৩ হাজার টাকা, হোটেল কর্মচারী নাসিরকে ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়াও হোটেল কর্মচারী উজ্জ্বলকে এক মাস ও রাজুকে ১৫ দিনে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে ওই প্রেমিক যুগলকে ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
খবর দেয়া হয় উভয়পক্ষের অভিভাবকদের। পরে অভিবাবকদের উপস্থিতিতেই চার প্রেমিক-প্রেমিকার বিয়ে পড়ানো হয়। কিন্তু বিয়ের আগে বেঁকে বসেন প্রেমিক সজীব। তিনি তার প্রেমিকা সোহানাকে বিয়ে করতে রাজি হয়না। প্রেমিকা সোহানাও ছেড়ে দেয়ার পাত্রী নন।
সবার সামনেই সজীব তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। সেইসঙ্গে তাদের ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্কের কথা সবাইকে বলে। অবশেষে দুই পরিবার ও প্রেমিক-প্রেমিকার সম্মতিতে ৫ লাখ টাকার দেন মোহরে বিয়ে হয় তাদের।
অপরদিকে, মুন্সিগঞ্জের প্রেমিক জুটি আকাশ ও ডলি আক্তার এক কথায় রাজি হয়ে যায় বিয়েতে। বিয়ের আগে এ প্রেমিক জুটি উৎফুল্ল ছিল। এমন পরিণতির জন্যই যেন তারা মুখিয়ে ছিলেন। অবশেষে তাদের দুইজনের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ৩ লাখ টাকা কাবিননামায় তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ে শেষে উভয় পরিবার একে অপরকে মিষ্টি মুখ করান।
ইউএনও গাউছুল আজম জানান, নারায়ণগঞ্জের আবাসিক হোটেল গুলোতে এখন শুধু অসামাজিক কার্যকলাপই হচ্ছে না। এসব আবাসিক হোটেলগুলো এখন প্রেমিক-প্রেমিকাদের গোপন অভিসারের নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, নারায়ণগঞ্জের আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছেলে-মেয়েরা এখানে এসে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে।
এ বিষয়গুলোর কারণেই সামাজিক অবক্ষয় হচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রয়োজন সচেতনতা। সেইসঙ্গে সবার সহযোগিতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের একার পক্ষে এ অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়।
ঢাকা, ১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





