নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় বিরোধপূর্ণ সরকারি জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও বাজার সুপারিনটেন্ডেন্টসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েল ও বাজার সুপারিনটেন্ডেন্ট মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম সোমবার দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করতে যান। এসময় ওই স্থানের লোকজন তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ওই কর্মকর্তাদের উদ্ধার করেন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষ না করেই ফিরে তারা ফিরে আসেন। এসময় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপে আহত হন কর্পোরেশনের বিজ্ঞাপন শাখার হালিম নামে এক কর্মচারী। তাকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাজার সুপারিনটেন্ডেন্ট মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, নগরীর লঞ্চঘাট এলাকার নদীপাড়ে সিটি কর্পোরেশন ও বিআইডব্লিউটিএ’র বিরোধপূর্ণ জায়গা ২৭ অক্টোবর রাতে দখল করে বাস্তুহারা লীগের নেতারা। তারা সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করে। ২৮ অক্টোবর নির্মাণাধীন স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে দখলদারের বাধায় তা স্থগিত হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, সোমবার দুপুরে সিটি কর্পোরেশন থানা পুলিশের সহায়তায় বিরোধপূর্ণ ২১ শতাংশ জমিতে নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে যায়। এ সময় স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীরা তাতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করতে কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। অভিযানও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম কবির জানান, স্থানীয় জনতা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা একপর্যায়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়।
দখলদারদের নেতৃত্ব দেওয়া বাস্তুহারা লীগ নেতা কালাম শরীফ জানান, তারা বিআইডব্লিউটিএ’র কাছ থেকে জমি লিজ নিয়েছেন। অবৈধভাবে তারা জমি দখল করেননি।
বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. শহীদ উল্যা জানান, নিয়ম অনুযায়ী নদীর পাড় থেকে ১৫০ ফুট জায়গা বন্দর কর্তৃপক্ষের। এ নিয়ম উপেক্ষা করে সিটি কর্পোরেশন জমির দখল নিতে চাইছে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, যারা বিআইডব্লিউটিএ’র জমিতে স্থাপনা করেছেন, তারা অবৈধভাবে জায়গা দখল করে আছেন। তাদের কাছে কোনো লিজ দেওয়া হয়নি।
জেআই





