ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) নতুন করে আরও ৩৬টি ওয়ার্ড যুক্ত করা হচ্ছে। যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলো দুই সিটিতেই ১৮টি করে ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সিটি করপোরেশনের আলোচনা চলছে।
বর্তমানে ডিএসসিসির ওয়ার্ড রয়েছে ৫৭টি আর ডিএনসিসির ৩৬টি। ঢাকা জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি এ বিষয়ে কাজ করছে। কমিটিতে রাখা হয়েছে দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডিএসসিসির সচিব খান মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আমরা এলাকা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে নতুন ওয়ার্ড করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছি। তবে কতটি ওয়ার্ড হবে তা এখনই চূড়ান্ত করে বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উভয় সিটির জন্য ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ড হতে পারে। কম-বেশিও হতে পারে। তবে কোন ইউনিয়ন কোন ওয়ার্ড বা কোন জোনে আসবে তা চূড়ান্ত হবে ওয়ার্ড সংখ্যা চূড়ান্ত হওয়ার পর।
জানা গেছে, গত ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন পায়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আয়তন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২৮ জুন এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
নতুন আয়তন অনুসারে দ্বিগুণ হয়েছে ঢাকা নগরীর আয়তন। এসব ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় ২ ঢাকা সিটি করপোরেশনের এলাকার আয়তন ১২৯ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ২৭০ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএসসিসির চেয়ে ডিএনসিসির আয়তন বেশি।
১৬টি ইউনিয়ন সিটি করপোরেশনের আওতায় আসায় এখানকার প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ এ দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় এসেছে। অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা এই এলাকার উন্নয়নে ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দুই মেয়রই।
ঢাকা দক্ষিণে যুক্ত হওয়া আট ইউনিয়ন হলো- শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মাণ্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ। ঢাকা উত্তর সিটিতে যুক্ত হওয়া আট ইউনিয়ন হলো- বেরাইদ, বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ডুমনি (খিলক্ষেত)।
দুই সিটি করপোরেশন মিলে ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়াবে এক কোটি ৮১ লাখ ৮৪ হাজার ৪১। এই হিসাব ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে। ধারণা করা যায়, এই সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
এম এ





