কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা সদরের এক বাসা থেকে ছুরিকাঘাতে নিহত এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত সাঞ্জিদা আক্তার লিপি(৩৮) সিঙ্গাপুর প্রবাসী আক্তার হোসেনের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের মা।

সোমবার বিকেল চারটায় উপজেলা সদরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার সাইদুর রহমান দুলালের পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি বাসা থেকে লিপির লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় তিনি ভাড়া থাকতেন।

লিপির স্বামীর বাড়ি উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের বুড়িরপাড় গ্রামে।

এলাকাবাসী জানান, অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে এ হত্যা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তার বাসা খুবই পরিপাটি এবং পরিচ্ছন্ন ছিল। হত্যার পরও কোনো কিছুই এলো মেলো ছিলনা। খাটের বিছানাও পরিচ্ছন্ন ছিল। রক্তের দাগ শরীরে এবং লাশের নিচে ছাড়া অন্য কোথাও তেমন দেখা যায়নি। শুধু মরদেহ চিৎ হয়ে পড়ে ছিল। রান্না ঘরও গোছানো ছিল। রান্না ঘরে শাক কেটে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল, হয়তো ওই সময় রান্না করার জন্য তৈরি হচ্ছিল। আলমিরা, সোকেসের প্রতিটি খোপে চাবি লাগানো ছিল দরজায় রক্তের চিহ্ন ছিল।

একই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাসরত নিহতের বোন লিমা আক্তার(২৫) জানান, তার নিহত বোনের ছেলে দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র নিলয় (১১) ও মেয়ে নিপা আক্তার (৯) একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। বিদ্যালয় ছুটির পর তারা বাসায় এসে দরজায় তালামারা দেখে ফিরে খালার বাসায় চলে যায়।

দুই ছেলে-মেয়ে তাদের খালা লিমা আক্তারের কাছে তাদের মায়ের খবর জানতে চাইলে খালা তাদের বাসায় অপেক্ষা করতে বলেন।

তালা মারা যেহেতু কাছাকাছি কোথাও আছেন- একথা বলে লিমা বাজারে চলে যান। এ সময় তার ছোট বোন নিশার কাতার প্রবাসী স্বামী সিহাব সেল ফোনে জানায় সকাল সাড়ে ১০টায় সাঞ্জিদা আক্তার লিপি’র সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে কান্নার শব্দ পায় এবং কথাও বন্ধ হয়ে যায়।

বিষয়টি জানার জন্য লিমাকে বাসায় খোঁজ নিতে বলেন। লিমা বাসায় এসে দেখেন দরজায় তালা মারা।

বাড়ির মালিক সাইদুর রহমান দুলাল ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে লিমা দেখেন খাটে রক্তাক্ত অবস্থায় তার বোনের লাশ পড়ে আছে।

পরে ভবনের পাশের টিনের চালার ওপর পড়ে থাকা চাবি উদ্ধার করেন। ঘটনার সময় অধিকাংশ ভাড়াটে বিভিন্ন কাজে ঘরে তালা মেরে অন্যত্র অবস্থান করার কথা জানান। যারা বাসায় ছিলেন, তারা এঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান।

প্রতিবেশী কাজী সুমন জানান, দির্ঘদিন যাবত পূর্বাশা, মোহনা, ধান সিড়ি, গোমতী আবাসিক এলাকায় দিনের বেলায় তালা ভেঙ্গে চুরি-ডাকাতি সংঘটিত হয়ে আসছিল।

সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, নিহত গৃহবধূ তার বাড়ির পাশের।

নিহত গৃহবধূ ও তার স্বামী সিঙ্গাপুর প্রবাসী আক্তার হোসেন হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। টাকা পয়সা লেনদেন অথবা তার স্বামী কর্তৃক টাকা পাঠানোর সংবাদে অজ্ঞাত দুষ্কিৃতিকারীরা টাকা নিতে এসেই তাকে হত্যা করে যেতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

বাড়ির মালিক সাইদুর জানান, তিনি তার দেশের বাড়ি থেকে এসে এ ঘটনা শোনতে পান। সিঙ্গাপুর প্রবাসী আক্তার হোসেন’র স্ত্রী দু’সন্তান নিয়ে প্রায় চার বছর যাবৎ এ বাসায় ভাড়া থাকেন।

আক্তার হোসেন সিঙ্গাপুর প্রায় ১৬ বছর যাবত থাকেন। ১৬ বছর আগে আক্তার হোসেন’র সঙ্গে মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামের মৃত সেলিম ভূঞার বড় মেয়ে সাঞ্জিদা আক্তার লিপি’র বিয়ে হয়। গত বছর তার স্বামী দেশে আসলেও ৫/৬মাস থেকে আবার চলে যান।

সংবাদ পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল মুরাদনগর)’র ইকবাল হোসেন হাজারী, দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ(সার্বিক) মো. মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অফিসার ইনচার্জ (সার্বিক) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে নিহতের বুকে, পেটের দু’পাশে এবং পেছনে চারটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর তাই ব্যাপক তদন্তের আগে আগাম কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছেনা। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযান চলবে।

ওএফ