বরিশালের কথিত ‘জ্বিনের বাদশা’কে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তার সহযোগী তিন প্রতারককে। যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারে ‘জ্বিনের বাদশা’র আরো সহযোগীরা।

এ সব তথ্য জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. সোয়েব আহম্মেদ। সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, এক সপ্তাহ ধরে গাইবান্ধায় অভিযান চালিয়ে ‘জ্বিনের বাদশা’কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন গাইবান্ধার দেবত্তর গ্রামের বাসিন্দা মৃত গুলজার রহমানের ছেলে ‘জ্বিনের বাদশা’ খ্যাত প্রতারক দুলা মিয়া, মথুরাপুর গ্রামের কবিরাজ বাড়ির বাসিন্দা মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মোজাম্মেল হক ইনজল, মথুরাপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা শ্রী শৈলেষ চন্দ্র মহন্তর ছেলে শ্রী সানা চন্দ্র মহন্ত ও পুর্ব সমসপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সোবাহানের ছেলে এনামুল হক আকন।

ঘটনার বিবরণে তিনি জানান, গত ২৮ অক্টোবর গভীররাতে পুলিশ সদস্য চান মিয়ার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে কল দিয়ে নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয় দেয় এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে দুলা মিয়া। স্বামী ও তার সন্তানের বিপদের আশঙ্কার কথা বলে জোসনা বেগমকে পটিয়ে ফেলে।

স্বামী-সন্তানের ভালোর জন্য কী করতে হবে- তা ‘জ্বিনের বাদশা’র কাছে জানতে চান জোসনা বেগম। সুযোগ বুঝে জোসনা বেগমকে তার কাছে যে টাকা আছে তা নিয়ে বরিশাল নগরীর লেচুশাহ মাজার এলাকায় আসতে বলে। স্বামী-সন্তানের ক্ষতি ঠেকাতে স্ত্রী জোসনা বেগম তার কাছে গচ্ছিত ১৬ হাজার টাকা নিয়ে হাজির হয় সেখানে।

এরপর তার হাতে একটু পানি ধরিয়ে দিয়ে ওই টাকা নিয়ে চলে যায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি। পরদিন মোবাইল ফোনে আরো টাকা দারি করে ‘জ্বিনের বাদশা’। জোসনা বেগমের কাছে টাকা নেই জানালে স্বর্ণালংকার নিয়ে আসতে বলে।

ওই স্বর্ণালংকার না দিলে স্বামী ও তার সন্তানকে গায়েবি পন্থায় মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এতে জোসনা বেগম প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে লেচুশাহ মাজার এলাকায় হাজির হলে সেখান থেকে ওই অজ্ঞাত লোক স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

সবকিছু হারিয়ে বিষয়টি স্বামীসহ সবার কাছে জানান জোসনা বেগম। স্বামী চান মিয়া তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান।

‘জ্বিন’দের ব্যবহ্নত মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে প্রতারক চক্রটি গাইবান্ধায় অবস্থান করছে। এরপর গাইবান্ধার মধুরাপুর গ্রামে অভিযান চালায় ডিবির পুলিশের একটি দল। ওই অভিযানে ‘জ্বিনের বাদশা’কে না পেলেও আটক করা হয় তার দুই সহযোগী ইনজল ও এনামুলকে। তাদের বরিশাল এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে ‘জ্বিনের বাদশার’ তথ্য।

পরে পুনরায় গাইবান্ধার রাম নাথাপুর গ্রামে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এ অভিযানে গ্রেফতার হয় ‘জ্বিনের বাদশা’ খ্যাত প্রতারক দুলা মিয়া ও তার সহযোগী সানা চন্দ্র মহন্ত।

এ প্রতারক চক্রটি এক সপ্তাহ আগে আগৈলঝাড়ার বাসিন্দা সেকান্দার সরদারের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে শাহীনুর আক্তারকে ফোন করে একইভাবে বিভ্রান্ত করে তার কাছ থেকে ২ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। তার বিয়ে জন্য এ স্বর্ণালংকারগুলো জমিয়ে রাখা হয়েছিল।

এসএইচ