সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনসহ কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আছেন গাইবান্ধার বাদশা কশাই ও প্রতিবন্ধী সেকেন্দারসহ কয়েক ব্যক্তি।
এমন তথ্য দিয়ে কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, পুলিশের হেড কোয়ার্টারসহ গাইবান্ধা এসপি আফিসে একটি দরখাস্ত আসে।ওই আবেদনে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধীর নামও রয়েছে।
আরও উল্লেখ করা হয়, সাগর-রুনিকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে!কিন্তু এমন অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য দিয়ে আবেদন আসার পরও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছে।
শুরু হয় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পুলিশের মধ্যে তোলপাড়। করা হয় তদন্ত। কিন্তু এ তথ্যের সত্যতা খুঁজে পায়নি পুলিশ।কিন্তু সত্যতা না পেলেও গুজবের কারণেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আবেদনে নাম উল্লেখ করা কয়েকটি পরিবার। তদন্তের পর পুলিশ গুজবের কথা স্বীকার করলেও গুজব নিয়েই আজগুবি কারবার শুরু হয়েছে গাইবান্ধা জুড়ে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘বেশ কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, পুলিশের হেড কোয়ার্টারসহ গাইবান্ধা এসপি আফিসে একটি দরখাস্ত করা হয়।
বলা হয়, ঢাকায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডসহ নারায়নগঞ্জের কয়েকটি খুনের সঙ্গে জড়িত হিসেবে কয়েক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়।দরখাস্তে আবেদনকারী হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়, কামারদহ ইউনিয়নের মাস্তা কানিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউল ইসলামের নাম।
বলা হয়, একই এলাকার বাদশা কশাই ও প্রতিবন্ধী সেকেন্দারসহ কয়েক ব্যক্তি দেশের অনেক খুনের সঙ্গে জড়িত। তারা পেশাদার খুনি। তারাই ১০ হাজার টাকা ভাড়ায় সাগরকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে।
পরে সাংবাদিক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করে। তাছাড়া, তারা নারায়নগঞ্জের ৭ খুনের সঙ্গে জড়িত।আবেদনপত্র পেয়ে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম গোবিন্দগঞ্জ থানাকে বিষয়টি জানায়।
সে অনুযায়ী গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি তদন্তের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) আকতার হোসেনকে তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিষয়টি গুজব বলে প্রমাণিত হয়। অভিযোগকারী হিসেবে জিয়াউল ইসলামের নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি বিষয়টি জানেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
তিনি বলেন, বাদশা কশাই ও সেকেন্দার আলী তার ভালো প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে সর্ম্পকের অবনতি করার জন্য কেউ হয়তো তার নামে দরখাস্ত করে তাকে হয়রানি করার চেষ্টা করছেন।ঘটনার পর একটি টেলিভিশনে গুজব নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার হলে তোলপাড় শুরু হয় এলাকায়।
পরে বাধ্য হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি এবং আবেদনপত্র দাখিলের কথা অস্বীকার করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন মিথ্যা প্রচারণাকারীদের বিরুদ্ধে। জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘তাকে ফাঁসাতে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার নামে মিথ্যা আবেদন দাখিল করা হয়েছে।’
অপরদিকে, বাদশা কশাই বাংলামেইলকে বলেন, ‘তিনি গরিব মানুষ। তাকে পথে বসাতে শত্রুতামূলকভাবে তার নাম উল্লেখ করে প্রচারণা চালানো হয়। প্রতিবন্ধী, যার একটি পা নেই সেই কেকেন্দার আলী কিভাবে দেয়াল বেয়ে উঠে খুন করতে পারে।’
এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, কোনো কোনো সাংবাদিক সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এ ধরনের প্রচারণা চালাতে পারে। কারন, এ অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হয়েছে। যার কোনো ভিত্তি বা সত্যতা মেলেনি।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন।
তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু গাইবান্ধার ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে যে আবেদন করা হয়েছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকা থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এসএইচ





