পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউনগুলোতে চলতি সপ্তাহেই ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে এই কথা জানান তিনি।

তিনি বলেছেন: অভিযানে ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গোডাউনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাঈদ খোকন বলেন, অভিযানে ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গোডাউনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জনবহুল পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউনগুলো একটি বড় সমস্যা।

নিমতলি ট্রাজেডির পরই কেমিক্যাল গোডাউনগুলো সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সম্ভব হয়নি। চলতি সপ্তাহেই ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গোডাউনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে। ঝুঁকিপূর্ণ নয় এমন কেমিক্যাল ছাড়া কেউ ব্যবসা করতে পারবেন না।

বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নাশকতার প্রশ্ন উঠলেও শেষ পর্যন্ত সুরাহা না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন: কড়াইল বস্তি, গুলশানের সিটি কর্পোরেশন মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডে পর সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে নাশকতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কিন্তু সেসব ঘটনায় তদন্ত কমিটি কিংবা মামলা হলেও বিষয়গুলো সুরাহা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণটাও জানা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন: গ্যাস সিলিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হচ্ছে। এগুলোকে আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

এসব অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা যদি ক্রাইম হয়ে থাকে তাহলে আমরা একটা ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ফায়ার সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা, অনুরোধ বা আহ্বান জানাবো, আপনারা অন্তত একটি ক্রাইমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন।

‘ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি ইস্যুজ ইন বাংলাদেশ, চ্যালেঞ্জ এন্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ফায়ার সার্ভস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর এবং ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ইসাব)।

গোলটেবিল বৈঠকের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থান করেন ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান। তিনি তার বক্তব্য অগ্নিকাণ্ডের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

এছাড়া, অন্যান্য সেবা সংস্থার প্রতিনিধিগন নিজ নিজ অবস্থান থেকে করনীয় ও চলমান কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এএস