রাজধানীতে ভূমিকম্পে ১২টি ভবন প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রাথমিক তদন্তের পর এসব ভবন অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত মনোয়ারা বেগমের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ৮৫৬ এর জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
সংসদে মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত এসব ভবন অপসারণে প্রাথমিক সহায়তার জন্য বুয়েটের পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। বুয়েটের পরামর্শ মোতাবেক ভবন মালিকদের সম্পূর্ণ ভবন বা ভবনের অংশ বিশেষ অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাস্টার প্ল্যান এলাকায় যে সব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ভবন মালিকদের জানানো হয়েছে। তবে ঝঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ ও সেই সব ভবন বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করার দায়িত্ব মূলত স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের।
একই সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় অবস্থিত ঝঁকিপূর্ণ ইমারত চিহ্নত করার দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের। এজন্য চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ইতিমধ্যে একটি তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। উচ্চ ভূমিকম্পে ঝুঁকির বিষয়ে বিবেচনা করে ঝঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নত করার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
সেলিনা বেগমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ১৯৮৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী ঢাকা শহরে ৬ হাজার ৪৬৮টি পরিত্যাক্ত বাড়ি রয়েছে। এরমধ্যে ‘ক’ তালিকাভুক্ত ৫ হাজার ২৫টি। এগুলোর আবার সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বসবাসের জন্য সংরক্ষিত ২৪৩টি। এসব বাড়ির মধ্যে ২ হাজার ৬৯৭টি বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের নির্দেশে ১ হাজার ১৫ টি বাড়ি অবমুক্ত করা হয়েছে।
মো. আয়েন উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, আধুনিক নগরায়নের জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারর্শিপের ভিত্তিতে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে। ইতোমধ্যে মিরপুর কালশিতে ‘মিরপুর ইন্টিগ্রেটেড টাউনশিপ ডেভলপমেন্ট’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পটি পিপিপি’র মাধ্যমে বাস্তায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য ইনভেস্টর (বিনিয়োগকারী) নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে। চলতি বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ নির্বাচিত বিনিয়োগকারীকে কার্যাদেশ প্রদান এবং তাদের সাথে চুক্তি সম্পাদন করা হবে।
কেএইচ





