আগামী ১৬ মার্চ রাজধানীর মিরপুরে শেরে বাংলা জাতীয় ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচ। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাকে নতুন করে রাণীর সাজে সাজানো হচ্ছে। শত শত শ্রমিকের দিন রাত পরিশ্রমের ফলে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক টাইম নিউজবিডিকে বলেন, ১৫ মার্চের মধ্যে রাজধানীর সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে এবার রাণীর সাজে সাজানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের লোকজন ঢাকায় আসবেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার লোকজনও এই ক্রিকেট খেলা দেখতে আসবেন। তারা এসে এই নগরীর সৌন্দর্য দেখে যাবার সময় রাজধানী ঢাকা এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে একটা ভাল ধারণা নিয়ে যাবেন। দেশের ভাব মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
ওই টার্গেট নিয়েই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সিটি করপোরেশ এবং আরো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় প্রায় ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, ড্রেন, ফুটপাত ও আইল্যান্ড পরিস্কার করে, উন্নত মানের টাইল্স ও পাথর বসিয়ে দ্রুত সংস্কার এবং নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দিনরাত এই উন্নয়ন এবং সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায়  ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ ১৫ মার্চের মধ্যে শেষ করতেই হবে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে শুরু করে গুলশান, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন,গণভবন, বাংলামটর, মিন্টোরোড, হোটেল সোনারগাঁও, হোটেল রুপসী বাংলা, বঙ্গভবন, বেগম রোকেয়া সরনী, মিরপুর ১০, ১১, ১৩, ১৪ ও শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট ষ্টেডিয়ামসহ আশপাশের এলাকাকে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যার পরে রাস্তায় বেরুলেই নগরীর প্রতিটি রাস্তার মোড়ে,আইল্যান্ডে, ফুটওভার ব্রিজ,বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনায় চোখ ধাঁধাঁনো নানা রঙের কৃত্রিম ফুল, ফল, বল ব্যাট এবং বেগুন আকৃতির মরিচা বাতির বাহারি আলোর ঝলকানি চোখে পড়ার মতো।
আর এই সৌন্দর্যকে টেকসই করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠান নগরীর বিভিন্ন সড়ক, চত্বর  এবং মোড়ে নানা রঙয়ের ফুল ও বাহারি পাতার গাছ রোপন ও পরিচর্যায় নিয়োজিত রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহসিন আলী জানান, রাজস্ব বিভাগ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তার দু'পাশের ভবন ও স্থাপনার মালিকদের চিঠির মাধ্যমে নিজ খরচে চুনকাম অর্থাৎ ভবন রঙিন করার নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশ মোতাবেক ইতোমধ্যে নগরীর অনেক ভবন বা স্থাপনার মালিক তাদের ভবনের চুনকাম শুরু করেছেন। সিটি করপোরেশোনের এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।
[b]ঢাকা, একে, ১৪ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]