নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘আশা করা যায়, আগামী জুন মাস নাগাদ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত শ্যালা নদীতে নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।’

বুধবার দশম জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে বেগম কাজী রোজীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত শ্যালা নদীটি মংলা বন্দর হতে দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত নৌ-পথের অংশ বিশেষ। শ্যালা নদীতে গত ডিসেম্বরে জ্বালানি তৈলবাহী নৌ-যানের দুর্ঘটনায় নদীতে জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়লে তা পরিষ্কার করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সকল প্রকার নৌ-যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে নদীটি অতিক্রমের জন্য এর উভয় প্রান্তে প্রায় ৪ শতাধিক জাহাজ অপেক্ষামাণ থাকে। নৌ-যান শ্রমিক ও মালিক সমিতির আবেদন ও এক প্রকার আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ জানুয়ারি নৌ-পরিবহন মন্ত্রাণালয় এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রাণালয় এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিতভাবে নৌ-যান চলাচলের জন্য সাময়িকভাবে অনুমতি দেয়া হয়। এর বিকল্প নৌ-পথ মংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নব্যতা পুনরুদ্ধার করে আগামী জনু মাসের মধ্যে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার ফলে আগামী জুন মাস পর্যন্ত শ্যালা নদী দিয়ে নৌ চলাচল করবে। বিকল্প চ্যানেল মংলা-ঘাষিয়াখালী ক্যানেলে খনন কাজ চলছে। আশা করা যায়, আগামী জুন মাস নাগাদ খনন কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তখন এ খননকৃত মংলা-ঘাষিয়াখারী চ্যানেল নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে এবং শ্যালা নদী দিয়ে নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।’

আরেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ডুবে যাওয়া ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ জাহাজের মালিক, নাবিক, ক্রু’র বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সরকার কর্তৃক গঠিত নৌ দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ডুবে যাওয়া জাহাজের মালিক, নাবিক ও ক্রুদের কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেআই