মৌলভীবাজারে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বন্যায় জেলার ৩৫ ইউনিয়নের ৩২৫ গ্রামের প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার ৫০০ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।
আজ রোববার (১৯ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়। অন্যদিকে বিদ্যুতের সাব স্টেশনে বন্যার পানি প্রবেশ করায় ইতোমধ্যে জুড়ী ও বড়লেখায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। জুড়ী উপজেলা কমপ্লেক্সে কোমর পানি থাকায় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলেন, বন্যায় বড়লেখা উপজেলার পৌর এলাকায় ১০টি ইউনিয়নের ২০০ গ্রামের ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কুলাউড়ায় উপজেলায় ফানাই নদীর বাঁধ ভেঙে ও হাকালুকি হাওড়ের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ৭টি ইউনিয়ন ৫০ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ, জুড়ী উপজেলায় ৩টি ইউনিয়নের ২৮টি গ্রামের প্রায় ১৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
এ ছাড়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ৬টি ইউনিয়ন ২০ গ্রামের প্রায় ৭ হাজার ৫০০ মানুষ পানিবন্দি। রাজনগর উপজেলায় ৪টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পাঁচ ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের ৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। তবে এ সকল গ্রামের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। গ্রামগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, এ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ২৪টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার সবকটি নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এবিএস





