রাজধানীতে ক্রমেই বাড়ছে মশার উৎপাত। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে লোড শেডিং ও অসহনীয় তাপদাহ। এসব কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীতে মশা নিধনের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। এমনকি চলতি অর্থ বছরে মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য কোনো যন্ত্রপাতিও ক্রয় করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মশা নিধনের জন্য বরাদ্দ করা টাকার সিংহভাগই হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400070812.jpg[/img]
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) চলতি অর্থবছরে (২০১৩-১৪) মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১১ কোটি টাকা। এরমধ্যে ওষুধ ক্রয় সাড়ে ৭ কোটি টাকা,স্প্রে মেশিন ও ফগার মেশিন ক্রয় এবং মেশিন পরিবহনে জ্বালানি খাতে ১ কোটি টাকা,কচুরিপানা পরিষ্কারের খাতে দেড় কোটি টাকা এবং আনুসঙ্গিক কাজে আরও ১ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
এরইমধ্যে ১ লাখ লিটার এডালডি সাইড ওষুধ ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকায় ক্রয় করেছে। আরও ২ কোটি ২০ লাখ টাকার ওষুধ ক্রয়ের জন্য আগামী ২২ মে টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। এরমধ্যে ১ লাখ লিটার এডালডি লাইড এবং ৪ হাজার ৪ লিটার এডালডি সাইড ওষুধ রয়েছে। তবে চলতি অর্থ বছরে ডিএসসিসিতে মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য কোনো যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়নি।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400070834.jpg[/img]
অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) চলতি অর্থ বছরে মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ রয়েছে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা। এরমধ্যে মশার ওষুধ ও মশক নিধন কার্যক্রম মনিটরিংসহ বরাদ্দ ৯ কোটি টাকা। মশক নিধনে নিযুক্ত কর্মচারীদের বেতন ও পোশাক খাতে বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা এবং যন্ত্রপাতি ফগার,হুইলসংযুক্ত মেশিন, স্প্রে মেশিন ও পরিবহন ব্যয় দেড় কোটি টাকা। এছাড়া কচুরিপানা পরিস্কারের বরাদ্দ ২ কোটি টাকা।
এরইমধ্যে ডিএনসিসি ১ লাখ লিটার এডালডি সাইড ওষুধ  ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার এবং  ৪ হাজার লিটার এডালডি সাইড ওষুধ ৭৮ লাখ ৯২ হাজার টাকার ক্রয় করেছে।  ১০০টি ফগার মেশিন ২ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়েছে। তবে ডিএনসিসি এই ওষুধ এবং ফগার মেশিন ক্রয়ে বড় ধরনের অনিয়ম এবং দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
এখানে লোপাটের অভিযোগ উঠেছে,ওষুধ ক্রয়ে প্রায় ১ কোটি  ৫০ লাখ টাকা, আর  বিনা টেন্ডারে ফগার মেশিন  ক্রয়ে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার। আর ডিসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারদের একটি সিন্ডিকেট ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণের মশার ওষুধ এবং যন্ত্রাপাতি অতিরিক্ত দামে ক্রয় দেখিয়ে লোপাট করছেন।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400070864.jpg[/img]
ডিএনসিসির প্রধান ক্রয় ও ভান্ডার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী টাইমনিউজবিডিকে জানান, সিন্ডিকেট ভাঙ্গা যাবে না। তারা অনেক শক্তিশালী। একই মন্তব্য করেন ডিএসসিসির ক্রয় ও ভান্ডার বিভাগের প্রধান আনোয়ার হোসেন।
তারা বলেন,কমপক্ষে ৪ মাস আগে থেকে ওষুধ ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। ইতোপূর্বে ওই সিন্ডিকেট  ভাঙ্গতে গিয়ে মশার ওষুধ ক্রয়ে একাধিকবার টেন্ডার আহবান করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক বলেন,নগরীতে মশার উৎপাত বেড়েছে। বাজার দর যাচাই করার জন্য কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কমিটির লোকজনের ওপর তো আস্থা রাখতে হবে। এছাড়া ওষুধ না কিনে তো উপায় নেই।
[b]ঢাকা,একে,১০ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]