একটি বা দুটি নয়, ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের, প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন একজন কর্মকর্তা। অথচ প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ছিলো কেউ একটির বেশি প্রকল্পের 'প্রকল্প পরিচালক' হতে পারবেন না। কিন্তু এ নিয়মকে তোয়াক্কা করছে না সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
তুষার কান্তি সাহা আছেন সড়ক ও জনপথ অধিদফতরে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে। গুরু দায়িত্ব পালন করছেন সিলেট বিভাগের ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক হিসেবেও। যার মোট ব্যয় ২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা।
সবশেষ প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছেন ২০১৮'র জানুয়ারিতে। সিলেট জেলার মহাসড়কের মানোন্নয়ন এবং প্রস্থ বাড়ানোর প্রকল্প। কিন্তু গত ১৩ মাসে কাজ হয়নি একটুও।
তার আগের প্রকল্পটি ছিলো ২০১৭'র জানুয়ারিতে। ২৫ মাসে ঐ প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৪ শতাংশেরও কম।
আর সিলেট শহরের বাইপাস গ্যারিসন লিংক থেকে শাহ পরাণ সেতু ঘাট রাস্তাকে ৪ লেনের মহাসড়কে রুপান্তরের কথা ছিলো ২০১৮র ডিসেম্বরের মধ্যে। কিন্তু এখনও তা শেষ হয়নি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিমান বন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন লালবাগ সালুটিকর কোম্পানিগঞ্জ জাতীয় সড়ককে মহাসড়কে রুপ দিতে হলে আগামী জুনের মধ্যে শেষ করতে হবে ৪২ শতাংশ কাজ।
আরও দুটি প্রকল্পের কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া নিয়ে রয়েছে সংশয়।
পরিকল্পনা বিভাগ (বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) ভারপ্রাপ্ত সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘কথা শুধু একটাই, সেটি হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নেয়া প্রকল্পটি, নির্দিষ্ট মান সম্মত করে প্রকল্প সম্পূর্ণ করা।’
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন না মেনে একজনকে একাধিক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক করায় ক্ষুব্ধ পরিকল্পনামন্ত্রীও।
তাকে উদ্দেশ্য করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমার কিছু করার নেই। আমি আপনাকে শাস্তি দিতে পারবো না, ইচ্ছাও নেই, প্রশ্নও উঠে না, তবে আমি আপনাকে শুধু নজরে আনবো এটা বলে রাখছি। আমি এটা আপনাকে জানিয়ে যাচ্ছি আমি এ বিষয়টি আপনার কর্তৃপক্ষ এবং সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবো।’
অন্যান্য প্রকল্পেও নিয়ম ভেঙ্গেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। আনোয়ারুল আমিন নামের আরেক ব্যক্তিকে ৪ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সংস্থাটি।
এসএম





