কিন্তু বেনাপোল চেকপোস্টের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে ‘মে আই হেল্প ইউ’ অফিস বানিয়ে সেবার নামে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা পাসপোর্ট যাত্রীদের সীমাহীন হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে এ ধরনের হয়রানি ভারত থেকে ফিরে আসার পর শুধুমাত্র বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের ক্ষেত্রে করা হচ্ছে।
বেনাপোলে চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মকর্তাদের সামনে প্রতিনিয়ত এ ধরনের বিরুপ আচারণ করলেও তারা প্রতিবাদ করছেন না। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাসপোর্ট যাত্রীরা।
ভারত থেকে ফিরে আসা রুবেল ও বিপ্লব নামে দুই পাসপোর্ট যাত্রী জানান, পেট্রাপোল কাস্টমস ব্যাগ চেক করার পর নোম্যান্সল্যান্ডে বিএসএফ সদস্যরা আবার এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ব্যাগ তল্লাশি করছেন। ব্যবহারের জন্য সামান্য মালামাল থাকলেও কেড়ে নিচ্ছেন অন্যথায় জোর করে অর্থ আদায় করছেন। আর প্রতিবাদ করলে দুর্ব্যবহার করছেন। তাই হয়রানি এড়াতে বাধ্য হয়ে যাত্রীরা বিএসএফকে ঘুষ দিচ্ছেন!
বেনাপোলের স্থানীয় ব্যবসায়ী মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সুবিধাজনক হওয়ার চিকিৎসা, ব্যবসা ও বেড়ানোর কাজে এ পথে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার পর্যন্ত পাসপোর্ট যাত্রী দু’দেশের মধ্যে যাতায়াত করছেন। এদের অনেকের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা জড়িত। একারণে তারা যখন ভারতে যান অথবা ভারত থেকে ফেরেন তখন আমারা চেকপোস্ট কাস্টমসে আসি দেখা করতে।
তিনি আরো জানান, প্রায়ই তাদের মুখে প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে কখনো ইমিগ্রেশনে আবার কখনো বিএসএফ সদস্য কর্তৃক হয়রানির খবর শুনতে পাই। বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির কাছে অনেকবার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনো কাজ হয়না।
বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক কাস্টমস হাউজের সুপারিন্ডেন্ট এন আহম্মেদ জানান, বিএসএফ সদস্যরা নোম্যান্সল্যান্ডে পাসপোর্ট যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তার নামে গত একমাস আগে ‘মে আই হেল্প ইউ’ অফিস বসিয়েছেন। ভারত থেকে ফেরার সময় কোনো অবৈধ মালামাল রয়েছে কিনা পেট্রাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেটা দেখেই ছেড়ে দিচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশে ঢুকবার আগেই আবার বিএসএফ সদস্যরা এই অফিসের সামনে ঢালাও ভাবে সবার ব্যাগ তল্লাশি করছেন। এটা হয়রানি ছাড়া আর কিছুই না। বিষয়টি নিয়ে পেট্রাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষে সঙ্গে আলোচনার জন্য আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিএসএফের এ ধরনের আচারণ দুঃখজনক। এ ব্যাপারে আমরা পেট্রাপোল কাস্টমস ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে বলেছি। কিন্তু বিষয়টি তারা কর্ণপাত করছেন না।
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





