ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় উদযাপিত হচ্ছে বিজয় দিবস। ভোররাত থেকেই জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় নামে মানুষের ঢল। এখানে শিশুরা কমে আসেনি। শিশুরা কেউ বাবার সাথে কেউ বা চাচা বা মামার সাথে আবার কেউবা মায়ের সাথে এসেছে স্মৃতিসৌধে।

ভোর বেলায় শিশির ভেজা ঘাসে পা ভিজিয়ে স্মৃতিসৌধের পথে হাটা শুরু করেন দূর দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ। এ যেন মানুষের ঢল নয় লাল-সবুজের ছড়াছড়ি।

কেউ মাথায় বেঁধেছে জাতীয় পতাকা, কেউবা জাতীয় পতাকার ছবি খচিত ব্যান্ড বেঁধেছে কপালে। ভোর থেকেই ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আসতে থাকেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্ট্যামফোর্ডে'রশিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক কাঁধে করে ছেলে আবু তালহা নিয়নকে নিয়ে এসেছেন স্মৃতিসৌধে। তিনি বলেন, আজ মহান বিজয় দিবস। আজ আমরা বিজয় দিবস উদযাপন করছি। ৩০ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে যে পতাকা পেয়েছি তার স্থান অন্য কোথাও নয়, আমাদের মগজে মস্তিস্কে। এই স্বাধীনতার পতাকা মাথায় নিয়ে ছেলেকে দেখাতে এসেছি কিসের জন্য এখানে আসা। রাতেই ছেলের গালে কপালে আঁকিয়েছেন পতাকার ছবি। মাথায় জাতীয় পতাকার ব্যান্ড।

সাভারে ফেরি করে পতাকা বিক্রি করছেন রেজানুর। তার পাশে দাঁড়িয়ে ৮ বছরের ছেলে সায়েমের কপালে জাতীয় পতাকার স্টিকার কিনে বাঁধিয়ে নিলেন বাবা ব্যবসায়ি নজরুল ইসলাম। তিনি বলছেন, নিজে বেশি লেখাপড়া করতে পারিনি। তবে ছেলেকে লেখাপড়া শিখাচ্ছি। ক্লাশ থ্রিতে পড়ছে। আজ যে বিজয় দিবস তাই দেখাতে ও বোঝতে এখানে ছেলেকে সাথে নিয়ে আসা।

স্কুলে শিক্ষকদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছে সপ্তম শ্রেণির সানি। বিজয় দিবস উদযাপনে ২০ টাকা দিয়ে জাতীয় পতাকার ব্যান্ড কিনে মাথায় বেঁধেছে সে। সানির নরম কন্ঠে ক্ষোভের আভাস। স্কুলের আবু হেনা স্যার বলছেন, পাকিস্তানিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক মানুষ মারছে। যুদ্ধ হইছে। আমরাই জিতছি। চাচ্চুর সাথেসকালে এখানে এসেছে বলে জানায় সানি।

নবীনগরের এক প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “হাজার হাজার শিশু স্মৃতিসৌধে এসে বিজয় দিবস উদযাপন করছে। তারা কেউই দেখেনি পাক-হানাদার বাহিনীর বর্বরতা আর আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব। অভিভাবক-শিক্ষকদের কাছে তারা শুনেছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প। কল্পনায় তারা নিজেরাও আজ এক একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে উঠেছে।

জেইউ/কেএইচ