অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায় মুক্তির খেতাব পেল চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিক এনা প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী-৪ এর সরকার দলীয় এমপি এনামুল হক।
জানা যায, গত ১৮ ডিসেম্বর দুদক চেয়ারম্যান ও ২ কমিশনার মিলে এনামুল হককে অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি দিয়ে তার অভিযোগটি নথিভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
দুদক নানা কৌশলে তাদের পছন্দের লোকজন, সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী, এমপি, নেতা, শিল্পপতি, সরকারের আমলা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ‘বাংলা ওয়াশ করে’ সাফাই গেয়ে দায় মুক্তির নামে ফ্রেস সার্টিফিকেট দিচ্ছেন।
একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ নথিভুক্ত করে রাখার জন্য আদেশ দেন কমিশন। ফলে দুদকের অনুসন্ধানী ও তদন্ত কর্মকর্তাও আজ অসহায়।
সেই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে মিডিয়াকে।দুদকের ভেতরের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রশাসান এবং জনগণকে জানতে দেয়া হচ্ছে না বরলও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা সাবেক পরিচালক যতন কুমার রায়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সরকারদলীয় এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২০৭ কোটি টাকা এবং তার স্ত্রী তহুরা হকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ এবং তথ্য গোপনের কথা উল্লেখ রয়েছে।
একই সঙ্গে এমপি এনামুলের কোম্পানীর নীট প্রফিট আফটার ট্যাক্স হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। তিনি সরকারকে ইনকাম ট্যাক্স (আয়কর) দিয়েছেন মাত্র ৮৭ লক্ষ টাকার উপর। অর্থাৎ তিনি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার।
শুধু তাই নয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর এমপি এনামুল হকের আয়কর আইনজীবী কাঞ্চন দাস মোবাইলে (নম্বর ০১৬৭৭০৭২১১১) থেকে তৎকালীন দুদক অনুসন্ধানী কর্মকর্তা যতন কুমার রায়ের মোবাইলে (নম্বর-০১৬৮৭৭১১২৭৯) ‘হাওয়া করে’ ফেলার হুমকি দেন।
আর ওই হুমকিতে বলা হয় এমপি এনামুল হকে কোম্পানি এবং ব্যক্তিগত সম্পদ আলাদা করে দেখতে হবে। তা না হলে হাওয়া করে ফেলা হবে।
দুদকের উপরের সবাই ম্যানেজ হয়েছেন, এখন শুধু তদন্ত (অনুসন্ধানী) কর্মকর্তা যতন কুমার রায় ম্যানেজ হলেই হবে। ওই ঘটনায় দুদক কর্মকর্তা যতন কুমার রায় (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রমনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৭৭৭) করেন।
অবশেষে যতনকে টেলিফোনের হুমকি দাতার কথাই প্রমাণ করলেন দুদক চেয়ারম্যান ও ২ কমিশনার। তারা সবকিছুর উধ্বে উঠে সরকার দলীয় এমপি এনামুল হক দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি দিলেন।
আর এ বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনকে 'দায় মুক্তির কমিশন' মন্তব্য করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বেগম জিয়ার ওই মন্তব্য নিয়ে দুদকের কমিশনার সাহবুদ্দিন চুপ্পু অনেক উচ্চ বাচ্চ করেছেন। কিন্তু বাস্তবে দুদক একটি 'দায় মুক্তির কমিশন' এটাই বার বার প্রমাণ করলেন দুদকের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ২ কমিশনার।
দুদক একের পর এক সরকার দলীয় এমপি ,সাবেক মন্ত্রী এবং সরকারি কর্মকর্তাকে দায় দুক্তির মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানে ইমেজ ধ্বং করছেন।
দুদক বর্তমান এমপি এনামুল হকের আগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা.আফম রুহুল হক এমপি,আসলামুল হক এমপি, সানজিদা খানম এমপি,পদ্মা সেতু পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতি মামলা ৭ আসামি,সমুদ্র পরিবহণের কয়েকশত কোটি টাকার জ্বালানী তেলের টাকা আত্মসাতের মামলার আসামি,পেট্রো বাংলার দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সাবেক এবং বর্তমান বেশ কয়জন কর্মকর্তা, পূর্বাঞ্চল রেলপথ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ইউসুফ মেধাসহ আরো অনেককেই অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি দিয়েছে।
একে,





