তৃতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীদের চরম ভরাডুবি হয়েছে । গতকাল শনিবার ভোটযুদ্ধে বিএনপি প্রার্থীদের জয়ী ঘোষনার পর আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা হতাশায় ভেঙ্গে পড়েন।

অন্যদিকে খোশ মেজাজে রয়েছেন বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। শনিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ কার্যক্রমের পর রাতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৭টিতেই ভরাডুবি ঘটেছে নৌকা মার্কার। বাকি ২টি ইউনিয়নে কোনো রকমে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নিজেদের আসন রেখেছেন আওয়ামী লীগের ২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী।

শনিবার সদর উপজেলার কোরবান নগর, মোল্লাপাড়া, জাহাঙ্গীরনগর, সুরমা, লক্ষণশ্রী, গৌরারং, কাঠইর, মোহনপুর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে কোরবান নগরে আনারস মার্কায় ৪৫৭৪ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন আবুল বরকত। নৌকা মার্কা নিয়ে ২৬৪৭ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন কোহিনূর আলম। মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে ৪৮৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল হক। ৪০৮৭ ভোট পেয়ে তার নিকটতম হয়েছেন মো. সোহান (নৌকা)।

লক্ষণশ্রী ইউপিতে ৩৯৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ। ২৭৯০ ভাট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন ইয়াকুব বখত (নৌকা)। গৌরারং ইউনিয়নে ধানের শীষ নিয়ে ৬৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ফুল মিয়া। আর ৪২৪ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহাব (খেজুর গাছ)।

মোহনপুর ইউপিতে ৩৩৯৩ ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল হক (লাঙ্গল)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মইনুল হক (নৌকা) পেয়েছেন ৩০৪ ভোট।

কাঠইর ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি শামছুল ইসলাম (খেজুরগাছ)। তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১৮৭৯। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির ফারুক মেনন (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১৩২৭ ভোট। রঙ্গারচর ইউনিয়নে ৩৩৪৯ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল হাই (ধানের শীষ)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ (নৌকা) পেয়েছেন ২৫৬৮ ভোট।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীর নগর ইউপিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী মোকছেদ আলী। তিনি পেয়েছেন ৮২৩ ভোট। আর ৩৭১৬ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কাদির।

সুরমা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন আব্দুস ছত্তার ডিলার। তিনি ৬৮২৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমির হোসেন রেজা ৫৮৭২ ভোট পেয়েছেন। এ দুটি ইউনিয়ন ছাড়া বাকি সবগুলোতেই নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শহরে এখন আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জেলার ৩টি উপজেলার মোট ২৬টি ইউনিয়নে শনিবার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলা ছাড়া বাকি ২ উপজেলার ইউনিয়নগুলোর ফলাফল রাত পৌনে ১২টায় খবরটি লেখাপর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি।

এইচ ই