বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন স্বাধীনতা আন্দোলনের চেতনাকে বিকশিত করেছিল। ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে মরণপন মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক এক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য দীর্ঘ দিনেও আমরা স্বাধীনতার সুফল ঘরে তুলতে পারিনি।

শাসকগোষ্ঠীর নেতিবাচক রাজনীতি ও ক্ষমতালিপ্সায় ভাষা শহীদদের সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি। অন্যদিকে ভাষা সৈনিককে স্বীকৃতি না দিয়ে জেলখানায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বাংলা ভাষাকেও সর্বজনীন করা সম্ভব হয়নি। তিনি ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং মহান ২১ এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান ।

তিনি আজ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘৫২র ভাষা আন্দোলন ছিল বিশ্ব ইতিহাসের এক যুগান্তকারী অধ্যায়। ভাষার জন্য এমন ত্যাগ ও কোরবানীর নজির বিশ্ব ইতিহাসে আর নেই। সেদিন ভাষার জন্য রাজপথে প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত ও শফিউর সহ আরো অনেকেই। আর সে জন্যই ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভাষা আন্দোলনে যারা অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করেছিলেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাদেরকে মূল্যায়ন না করে বরং অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

ডাকসুর সাবেক জিএস ও ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমকে সরকার ভাষা সৈনিক হিসাবে স্বীকৃতি না দিয়ে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই জেলখানায় বন্দী করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। যারা মানুষের অধিকার সম্পর্কে উচ্চকন্ঠ ছিলেন সরকার তাদেরই জুলম-নির্যাতন চালাচ্ছে। কিন্তু মিথ্যাচার চালিয়ে কখনো ইতিহাস বিকৃত করা যাবে না বরং সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই।

ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সহকারি সেক্রেটারি এইচ এম আতিকুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিম। বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা মোস্তফা কামাল ও নূরুল আমিন প্রমূখ।

নাজিবুল্লাহ/জারিফ