মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন ওয়েস্টবিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, নতুন একটি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র কয়েক মাস হয়েছে। অথচ এরই মধ্যে সরকারের ওপর সব সমস্যার দায় চাপিয়ে দিয়ে সরকারকে বিদায় করার দাবি তোলা হচ্ছে। তিন-ছয় মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, এমন কোনো আলাদিনের চেরাগ প্রধানমন্ত্রীর হাতে নেই। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন। তাই সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পাঁচ বছর কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং সরকারও সে অনুযায়ী চেষ্টা করছে। কোথাও দুর্বলতা থাকলে তা ধরিয়ে দিতে হবে। তবে সমালোচনা করতে গিয়ে এমনভাবে করা উচিত নয়, যাতে কাজ করার উৎসাহ নষ্ট হয়ে যায়। সরকার ভালো কাজ করতে না পারলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে। দেশকে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

নগরীর পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন ২৪ ঘণ্টা বর্জ্য অপসারণ করলেও নাগরিকরা নিয়ম না মানলে সেই প্রচেষ্টা সফল হবে না। রাত ৯টার পর বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেক জায়গায় বাধ্য হয়ে দিনের বেলায় বর্জ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ জন্য নাগরিকদেরও নিজেদের অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা ও নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এগিয়ে এসেছে। সড়কের লোড ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো সেসব জায়গার রক্ষণাবেক্ষণ, সবুজায়ন ও ফুলের গাছ লাগানোর দায়িত্ব নিতে পারে। ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এ উদ্যোগে যুক্ত হলে নগরবাসী উপকৃত হবেন।

হকার উচ্ছেদ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের জীবন-জীবিকা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখতে হবে। গার্মেন্টস খাতে লাখ লাখ নারী শ্রমিক কাজ করেন। এসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে। পাশাপাশি কর্মহীন মানুষের জীবনেও সংকট তৈরি হবে। তাই কোনো খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব কী হতে পারে, তা সবাইকে বিবেচনা করতে হবে।

আবদুস সালাম আরও বলেন, দেশের দায়িত্ব শুধু প্রধানমন্ত্রীর একার নয়, প্রত্যেক নাগরিকের। দেশের প্রতি, সমাজের প্রতি ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। নিজের আচরণ, কাজ ও কথাবার্তার মধ্য দিয়ে সেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে বড় বড় প্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, রাস্তা ও মসজিদ নির্মাণসহ জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসত। বর্তমানে এ ধরনের উদ্যোগ কমে গেছে। প্রত্যেকের আয়ের একটি অংশ সমাজের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা উচিত। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন শহরে রূপান্তর করা সম্ভব।

এমএম