সিলেটের গোয়াইন ঘাট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে (জীববিজ্ঞান) জোর করে অব্যাহতি পত্র দিতে বাধ্য করেছে কমিঠি। এছাড়া সম্মানহানি এবং তার স্বামী ও সন্তানদের প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে স্কুলের চাকরি থেকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি মিলনায়তনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছেন গোয়াইন ঘাট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসাঃ জাকিয়া আক্তার ভূইয়া।
লিখিত বক্তব্যে স্কুল শিক্ষিকা জাকিয়া বলেন, ২০০৩ সালে গোয়াইন ঘাট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা (জীববিজ্ঞান) হিসেবে যোগদান করি। আজ অবদি সুনামের সাথে শিক্ষকতা করে আসছি। কিন্ত গেল বছর নভেম্বর মাসে মানবসৃষ্ট এক ঝড়ে আমার শিক্ষকতা, পারিবারিক, ব্যক্তিগত জীবন আজ চরম হুমকির মুখে।
তিনি বলেন, গেল বছর ৩ নভেম্বর পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয় পরিচালনার সভার আহবান করা হয়। ওই সভায় আচমকা আমার উপর অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ শুরু করেন কতিপয় সদস্যবৃন্দ। এ সময় কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। আমি এর প্রতিবাদ জানালে, ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ করা হয়। আমি অব্যহতি পত্র না দিলে আমাকে সম্মানহানি করা হবে এবং আমার স্বামী ও সন্তানদের প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করা হয়।
এ সময় স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো: গোলাম কিবরিয়া হেলাল এর উপস্থিতিতে কমিটির সদস্য মো: লুৎফুল হক, মো: আব্দুল মালিক ও হাফিজ তাজুল অকথ্য ভাষায় আমার উপর চতুরমুখী আক্রমণ করেন। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পিত ও সাজানো ওই সভায় ইজ্জত ও জীবন বাঁচাতে অব্যাহতি পত্র দিতে বাধ্য হই।
ওই সভায় আমাকে আরও বলা হয় যে, প্রধানমন্ত্রীর পরে যদি আর কারো ক্ষমতা থাকে, তাহলে এই পরিচালনা কমিটির রয়েছে। আজকের ঘটনা যদি বাইরে প্রকাশ করা হয় তবে বেইজ্জতি করাসহ বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমায় আমাকে ও পরিবারকে জড়িয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি প্রদান করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন যে, ওরা শুধু আমাকে অপমান অপদস্ত করে ক্লান্ত হয়নি। ওই স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আমার নাবালক পুত্র মো: জুনায়েদ কবির সরকারকেও গেল বছর বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি। তার শিক্ষা জীবন এখন অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছে।
জাকিয়া বলেন, ওরা পরবর্তীতে থানা প্রশাসন দিয়ে নানা রকম হয়রানি করানো হয় এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণ নাশের হুমকি অব্যহত রাখে। অবশেষে স্কুলের কোয়ার্টার ও গোয়াইন ঘাট ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
তিনি বলেন, কি কারণে আমার প্রতি এই অত্যাচার? তার কোন প্রশ্নের উত্তর স্কুলের পরিচালনার কমিটির কোনো সদস্য আমাকে আজও পর্যন্ত জানাতে পারে নি। আইনী ব্যবস্থা নিতে চাইলে থানার অফিসার ইনচার্জ আমাকে উল্টো অশালীন কথাবার্তা বলে অপমান করেন আমাকে থানা থেকে বের করে দেয়।
জাকিয়া অভিযোগ করে বলেন যে, আমার উপর নির্যাতন ও চাকুরীচ্যুত করার চেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে যখন ওই কমিটির সদস্য মো: লুৎফুল হক ও মো: আব্দুল মালিক আমার কাছে থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। উনারা বলেন, ওই টাকা প্রদান করলে পরিচালনা কমিটি খুশী হয়ে তোমার চাকুরি ফিরিয়ে দেবে। তখন আমি বুঝতে পারি কেন আমাকে অব্যহতি পত্র দিতে বাধ্য করা হয়।
কমিটির সদস্য মো: লুৎফুল হক, মো: আব্দুল মালিক ও হাফিজ তাজুল শুধু ৫ লাখ চাঁদা দাবি করে বসে থাকেনি। আমার উপর সকল অত্যাচরের মূল পরিকল্পনা ছিল এদের। এমনকি চাকুরি ফিরেয়ে দিতে আমাকে কু-প্রস্তাব দিতেও দ্বিধা করেনি ওই লম্পট চক্র।
স্কুল শিক্ষিকা জাকিয়া বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে কত নীচে আমাকে নামানো হয়েছে। এ লজ্জা শুধু কি আমার। না এর দায়ভার জাতি নেবে? আমি দুই সন্তান নিয়ে চরম অনিশ্চিয়তা ও হতাশায় ভুগছি।
এ ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি, চাকুরি ও জীবনের নিশ্চয়তা, সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আপনাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী ও প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাকিয়ার স্বামী মো: জহিরুল কবির সরকার ও দু’ সন্তান মো: জুনায়েদ কবির সরকার, শোয়াইব কবির প্রমুখ।
কেএইচ





