যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে কাজ করেছে, তাদেরই একসময় স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাতজনের হাতে স্বাধীনতা পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, “একটা সময় ছিল যখন এ পুরস্কার দেয়া হয়েছিল তাদের, যারা হয়তো বাংলাদেশের স্বাধীনতাই চায়নি; বরং হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তাদের পুরস্কার দিয়ে এই পদককে কলঙ্কিত করা হয়েছে।”

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ওই সময় এসেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সে সময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসকে মুছে ফেলে মনগড়া ইতিহাস রচনা করা হয়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের নাম একরকম নিষিদ্ধ হয়েছিল।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা, নির্যাতন, মানবতাবিরোধী কার্যক্রম করেছে, তাদের রক্ষার অপচেষ্টাও চলেছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশে এ ঘটনা দেখা না গেলেও এখানে তা ঘটেছে। গণতন্ত্রকে পদদলিত করে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করা হয়েছে। ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যারা প্রতিবাদ করেছে, তাদের ওপর নেমে এসেছে অত্যাচার।”

স্বাধীনতা পুরস্কারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ২৪ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। ধাপে ধাপে আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে গেছেন শেখ মুজিবুর রহমান।” এ সময় প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতাকারী বিদেশি বন্ধু, মিত্রদেশ ও তাদের জনগণকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “এই পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার। বিশিষ্ট ব্যক্তি, যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখেন, তাদেরই এ পুরস্কার দেয়া হয়। আমরাও চেষ্টা করেছি, ২০১৫ সালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন, আমরা তাদের আজ পুরস্কৃত করলাম।”

এএইচ