মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণে অতিরিক্ত দেড় কোটি ডলার দিচ্ছে সৌদি ফান্ড।

বাড়তি এই অর্থ দিয়ে এফডিসি গেট থেকে কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে নতুন ফ্লাইওভার। এর দৈর্ঘ্য হবে ৪৫০ মিটার।

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ২৫০ মিলিয়ন সৌদি রিয়েল বা ৬ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে সৌদি ফান্ড।

ফ্লাইওভারের নতুন অংশ নির্মাণে সৌদি আরব অতিরিক্ত অর্থায়ন হিসেবে দিচ্ছে ৫০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল বা ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। সৌদি ফান্ডের শর্ত অনুযায়ী এ ঋণের বার্ষিক লোন চার্জ দিতে হবে ২ শতাংশ। ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে সরকারকে।

আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি আরবের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি-২ সম্মেলন কক্ষে এই ঋণচুক্তি সই হবে। এতে সৌদি ফান্ডের পক্ষে সৌদি এক্সপোর্ট প্রোগ্রামের মহাপরিচালক আহমেদ এম আলগানান এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন চুক্তিতে সই করবেন। ইআরডি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আহমেদ এম আলগানান চুক্তি সই উপলক্ষে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সৌদি আরব শুরু থেকেই অর্থায়ন করছে। পরবর্তীতে প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপিতে (প্রকল্প প্রস্তাবনা) এফডিসি থেকে সোনারগাঁও পর্যন্ত অংশটি নকশায় যোগ করা হয়। মূল নকশায় বিষয়টি না থাকায় এর অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। পরবর্তীতে নতুন প্রস্তাবনার মাধ্যমে সৌদি ফান্ডকে রাজী করানো হয় বলে ইআরডির একটি সূত্র জানিয়েছে।

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের বর্ধিত এই অংশটি নির্মিত হলে এফডিসি রেলক্রসিং এড়িয়ে সহজ যাতায়াত স্থাপিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতিমধ্যে মগবাজার মৌচাক ফ্লাইওভারের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যান্য অংশের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ প্রকল্পে সৌদি আরবের পাশাপাশি ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।

 প্রকল্পটির আওতায় যেসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সেগুলো হল- ৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ, ৩ হাজার ৮৪৩ দশমিক ৭০ বর্গকিলোমিটার অবকাঠামো অধিগ্রহণ এবং ৪০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ।

২০১১ সালে বহুল আলোচিত মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ-শান্তিনগর ও তেজগাঁও এলাকার যানজট নিরসন করে অবাধ যান চলাচল নিশ্চিত করা। সে সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রায় ৪৪৬ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ২১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বর্তমানে নতুন অংশ যুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব অর্থ সহায়তা বাড়িয়েছে।

এসএ