রাতের ভাতের সাথে ছিল মাংস। ফ্রিজ থেকে মাংস বের করে গরম করার পর ঘুমের ঔষধ মিশিয়েছিল শিল্পী। ওই খাবার খেয়েই সবাই অবচেতন হয়ে পড়লে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা ও দামি সব মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় শিল্পী।

গত ১৪ নভেম্বর চকবাজার ২১নং জয়নাগ রোডের হাজী মোহাম্মদ তাজউদ্দিনের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ নেয়। এর তিনদিন পরেই ১৭ নভেম্বর রাতে এই চুরির ঘটনা ঘটায় শিল্পী আক্তার।

বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিল্পীকে গ্রেফতার করে চকবাজার থানা পুলিশ।

এসময় শিল্পির কাছ থেকে ৩৪ হাজার ৮৫০টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণ, ৬ ভরি রুপা, ২টি মোবাইল সেট এবং দামি কাপড়চোপর উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

গ্রেপ্তারের পর বাড়ির লোকদের অবচেতন করে চুরির বর্ণনা দিতে গিয়ে শিল্পী বলেন, রাতে মুরগির মাংস গরম করার সময় ঘুমের ওষুধ ঢাইল্যা দিছি। এরপর হেরা সবাই ঘুমাইয়া পরছে। পরে নানির বালিশের নিচ থাইক্যা চাবি লইয়া সব চুরি করছি।’ কাজে যোগ দেয়ার মাত্র তিনদিনের মাথায় সে কাজ করেছে বলেও স্বীকার করেন শিল্পী।

শিল্পি ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, জীবনে এই প্রথম এই চুরির কাজে অংশ নেন তিনি। ফাতেমা ওরফে কুলসুম নামে যে কাজে পাইয়ে দিয়েছিল সেই তাকে ঘুমের ওষুধ সরবরাহ করেছে। কুলসুম কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা মনুবেপারীর ঢালে থাকেন বলে জানায় শিল্পী।

দুই মাস আগে ওই এলাকায় আশা সমিতির লোন করতে গিয়ে কুলসুমের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। এরপর সেই বুদ্ধি দেয় বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কাজ করে মালামাল চুরি করে তার কাছে নিয়ে গেলে সে তাকে টাকা দিবে।

নিজের সম্পর্কে বলেন, তার দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ বসবাস করেন। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের গোলপাতিয়া গ্রামে।

চকবাজারে ওই বাড়ির বড় ছেলে ব্যবসায় হোসেন উদ্দিন সুমন জানান, ঘটনার দিন তিনি বাইরে ছিলেন। রাত ১২টার দিকে বাসায় ফিরে দেখেন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। তিনি ও ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে তার বড় ছেলে তাসিন তাকে ডেকে তুলে বলেন, দাদি মনে হয় মারা গেছে। এরপর তিনি দ্রুত তার মা’র ঘরে গিয়ে দেখেন অচেতন অবস্থায় রয়েছে। তিনি বুঝতে পারে কিছু একটা হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখেন শিল্পি নেই এবং ঘরের বেশ মালামালও চুরি গেছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন তাদের বাড়ির ৯ জন অজ্ঞান হন। তারা হলেন- তার মা আনোয়ারা বেগম, স্ত্রী রেশমা, তার মেঝ ছেলে ইয়াসিন, ছোট ছেলে হামিম, খালা সানোয়ারা বেগম, খালু ফয়সাল, অন্য একটি কাজের মেয়ে (নাম জানাতে পারেননি), দুই দারোয়ান হালিম ও আব্দুল মান্নান। সবাই রাতে মুরগীর মাংস ও ধনিয়াপাতার ভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে সবাই অচেতন হন। বুঝতে পারেন রাতে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ দিয়েই এই কাজ করেছে শিল্পি।

লালবাগ বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, চকাবাজারের ওই চুরির ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। শিল্পীকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে এক জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাকে খুঁজছে পুলিশ।

তিনি মানুষকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করে বলেন, যারা কাজের লোক, চালক এবং দারোয়ান রাখবেন তারা সব সময় তাদের একটি ছবি ও বায়োডাটা রাখবেন। এছাড়া তাদের সেই বায়োডাটায় তথ্য যাচাই বাছাই করবেন। আর নিকটবর্তী থানায় এবং চেয়ারম্যান বা সিটি করপোরেশনের সনদপত্র দেখার জন্যও বলেন।

জেইউ/কেএইচ