প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম ধর্মের জন্য যে জেহাদ হয়েছে, সেই জেহাদের প্রথম শহীদ ছিলেন একজন মহিলা, সুমাইয়া।

মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম ধর্মের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ইসলামের অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। এ কথা সব সময় মনে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, নারীরা আজ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত, কাজ করলে ন্যায্য মজুরি দেয়া হয় না নারীকে। এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশে নারীরা ও শিশুরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি।

তবে ইসলাম নারীকে সমান অধিকার দিয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বামীর সম্পদে যেমন তাদের অধিকার তেমনি পিতা-মাতার সম্পদেও অধিকার রয়েছে নারীর। এই অধিকার একমাত্র ইসলাম ধর্মেই দেয়া আছে। “অন্য কোন ধর্মে সেটা নাই আপনারা দেখতে পারেন”।

তিনি আরও বলেন, প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী ছিলেন একজন নারী। তিনি হলেন বিবি খাদিজা। তিনি ব্যবসা বাণিজ্য করতেন, দেশ বিদেশে ঘুরতেন। কাজেই আমাদের সামনে দৃষ্টান্ত রয়েছে। আমাদের ঘাবড়াবার কিছু নেই।

প্রধানমন্ত্রী কারো প্রতি মুখাপেক্ষী না হয়ে নারীদেরকে নিজেদের ভাগ্য নিজেরা গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বলেন,  নারীদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলতে হবে।

করুনা ভিক্ষা নিয়ে মেয়েরা বাঁচতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পৃথিবীতে একমাত্র বাংলাদেশই দৃষ্টান্ত হয়ে আছে যেখানে সরকার প্রধান, বিরোধী দলীয় নেতা, পার্লামেন্টের উপনেতা ও স্পিকার-এই চারজনই নারী।

তিনি বলেন, সচিবালয় থেকে সব জায়গায় ডেকেয়ার সেন্টার চালু করেছি। স্বামী পরিত্যক্তা, নির্যাতিত নারীদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি। নারীদের জন্য নীতিমালা করেছি। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যৌতুক নিরোধ আইন সংশোধন করে যুগপোযোগী করা হচ্ছে। আরও করা হচ্ছে ক্রাইসিস সেন্টার। মেয়েরা যেনো আইনি সহায়তা পায় সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। সেখানে ব্যবস্থা করা হয়েছে নারীদের কর্মসংস্থানের। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায়ই সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারবো।

শেখ হাসিনা বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে নারীদের ১০ শতাংশ কোটা বঙ্গবন্ধু চারু করে গেছেন। নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে গেছেন। ২০১০ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল পর্যায় থেকে স্থানীয় সরকার প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেই। উপজেলা পরিষদে নারীদের আসার প্রক্রিয়া করেছি। স্থানীয় সরকারের সবক্ষেত্রে নারীদের আসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তিন বাহিনীতে নারীদের উপস্থিতি, জজকোর্টে নারী, নারী পাইলটসহ বাংলাদেশের জন্য সাঁতার ও ভারোত্তলনে দুই নারীর স্বর্ণ জয়ের কথা উল্লেখ করেন।নারীদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য অবদানের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে, সংসার সুখের হয় নারীর গুনে-এই প্রবাদটি মনে রেখে নারীদেরকে নিজেদের সংসারের প্রতি মনোযোগী ও আন্তরিক হওয়ারও আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের পাশাপাশি যেন পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আইন করতে না হয় সেজন্য নারীদের সহনশীল হওয়ারও আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

কেবি