উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের হাজী ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কায় খোলা আকাশের নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। যে কোনো সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে ভবনটি।

বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২টি কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান চলছিল। প্রাইমারির ছাত্র-ছাত্রী বৃদ্ধি পাওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ কক্ষ ছেড়ে দেয়ার জন্য নোটিস দিয়েছে। তাই রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে খোলা মাঠে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ভবানীপুর হাজী ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান কামাল মুন্সি জানান, শত প্রতিকূলতায়ও নুয়ে পড়েনি শিক্ষা কার্যক্রম। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় শতাধিক পাস এবং বরিশাল জেলায় ৪র্থ স্থান লাভ করে বিদ্যালয়টি। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমলে ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী ডা. খিটিস চন্দ্র মন্ডল একটি ভবন করে দেন। সেই ভবনটির টেম্পার নষ্ট হয়ে ভেঙ্গে যায়। ভাঙ্গা দেয়ালের ওপর নিজস্ব অর্থায়নে একটি টিনশেড করা হয়। এরপর থেকে আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখন আর এ ভবনে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে এই স্কুলে প্রায় ৪শ’ ৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক সফিকুল আলম জানান, এই স্কুলটি ৭৫ শতাংশ জমির ওপর ১০টি কক্ষ নির্মিত হলেও প্রায় ৮ কক্ষই বেহাল দশা। এখানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া যায় না। তাই শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করানো হচ্ছে। স্কুলের আসবাবপত্র পড়ে রয়েছে খোলা আকাশের নিচে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওলি আহাদ জানান, শিক্ষার্থীদের পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখে দ্রুত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেআই