রাজশাহী জেলার বাগমারায় এবার তালিকাভুক্ত শীর্ষ জেএমবি সদস্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় বাগমারা আওয়ামী লীগের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ওই জেএমবি সদস্যের নাম আবদুস সালাম।
গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন থেকে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। বাংলাভাইয়ের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগীর নাম গোয়েন্দা সংস্থা ও থানা পুলিশের তালিকায় রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর সরকার।
তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জানান, বাংলাভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন আবদুস সালাম। এলাকার মানুষকে নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন। তার নির্দেশে আওয়ামী লীগের অনেককে তখন হত্যা করা হয়।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মধ্যেই আবদুস সালাম সংসদ সদস্য এনামুল হকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এর পর উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক হন। তবে জেএমবি সদস্য হিসেবে এখনও তিনি তালিকাভুক্ত রয়েছেন।
তিনি বলেন, তৃণমূলের মতামত ছাড়াই জেলা আওয়ামী লীগ ও সাংসদ এনামুল হককে ম্যানেজ করে মনোনয়ন পেয়েছেন আবদুস সালাম। তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সবাই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে।
পুলিশের রাজশাহী জেলা বিশেষ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আবদুস সালাম তালিকাভুক্ত জেএমবি সদস্য। এটা এলাকার সবাই জানে।’ বাগমারা থানার ওসি মতিয়ার রহমান বলেন, ‘জেলা বিশেষ শাখা যে তথ্য দিয়েছে, তা সঠিক। তাদের দেওয়া তালিকা থানাতেও আছে।’
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘সালাম আওয়ামী লীগের নেতা। জেএমবি সদস্য, এটা আমার জানা ছিল না।’ এ ব্যাপারে জানতে বাগমারা আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু বলেন, ‘জেএমবি সদস্য আবদুস সালাম কীভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন, তা জানি না। তবে এটা এমপি এনামুল হক করিয়েছেন।’
এমআর





