বগুড়ার শেরপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আনিছুর রহমান (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় শেরপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তছলিম উদ্দিন নামের এক আসামিকে আটক ও হত্যা কাজে ব্যবহৃত ধারালো ছোড়া উদ্ধার করেছে।
শেরপুর থানার ওসি খান মোঃ এরফান জানান, সোমবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের চন্ডেশ্বর গ্রামের গোলাম হোসেনের পুত্র তছলিম উদ্দিনের (৩০) সাথে একই এলাকার আনিছুর রহমান (৩৫) এর পূর্ব শত্রুতার জেরে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর তছলিম, আলিম ও রুবেল মিলে আনিছুরকে ধারালো ছোড়া দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর পাশাপাশি লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে।
এ সময় তার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা সেখান থেকে সটকে পড়ে। আনিছুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এই খবর এলাকায় পৌছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
এ দিকে ঘটনার পরপরই শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মোঃ এরফানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে চন্ডেশ্বর গ্রাম থেকে গোলাম হোসেনের পুত্র তছলিম উদ্দিন (৩০) কে আটক করে এবং তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তল্লাশি চালিয়ে পুকুরের মধ্যে হতে হত্যাকান্ডে চাকু সহ লাঠি উদ্ধার করে।
আটককৃত তছলিম সাংবাদিকদের জানায়, প্রায় বছর খানেক আগে সে তার জমিতে বিষ দিলে আনিছুরের বেশ কয়েকটি হাঁস মারা যায়। সে সময় বিচারে তার ১৫শ টাকা জরিমানা দিতে হয়। সেই শত্রুতার জের ধরে আনিছুর তার বাড়ীর বিদ্যুতের লাইনের তার দুবার চুরি করে এবং মিটারটি ভেঙ্গে ফেললে সেই রাগে সে এমন কাজ করেছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মোঃ এরফান জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা সংবাদ পেয়ে সাথে সাথে অভিযান চালিয়ে আসামি আটকের পাশাপাশি অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে। আনিছুরকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা নেয়ার পথে সে মারা যায়।
এমএনজে





