গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের উদ্যোগে আসন্ন ২০১৭-১৮ জাতীয় বাজেটে গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সেবা, আবাসন, রেশনিং ও পরিবহন খাতে বরাদ্দের দাবীতে গার্মেন্টস শ্রমিক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার ( ৫মে ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনের অয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগমের সভাপতিত্বে সংহতি বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি আবুল হোসাইন, নাগরিক পরিষদের আহবায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামীমা আক্তার শিরিন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ফেডারশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস, সহ-সভাপতি মিসেস সুইটি, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফরিদ উদ্দীন, প্রচার সম্পাদক মোঃ লিমন হাওলাদার সহ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য আসন্ন ২০১৭-১৮ অর্থ বৎসরের সুনির্দিষ্ট দৃশ্যমান বাজেটে বরাদ্দ দাবী করে বলেন, চলতি অর্থ বছরের সম্ভাব্য চার লক্ষাধিক কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে দেশের প্রায় ৪৫ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিকদের পরিবারের ৪ কোটি সদস্যের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখার দাবি করেন।

দেশের ৫ হাজার ৫শ’ গার্মেন্টস কারখানায় স্বল্প মজুরী, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অনিরাপদ সন্তান প্রসব ব্যবস্থা, পরিবহন সঙ্কট, শিল্প এলাকা ভিক্তিক শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল, শিশু সন্তানদের জন্য ‘শিশু লালন কেন্দ্র’ এবং বাসস্থানসহ নানা ধরণের সমস্যা রয়েছে। এ ধরণের সমস্যা দূর করা গার্মেন্টস মালিক, বায়ারদের হলেও রাষ্ট্র ও সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। বিগত বাজেটগুলোতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের এসব সমস্যা সমাধানের কোনো দিক নির্দেশনা ও বরাদ্দ না থাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা হতাশ ও উদ্বিগ্ন। এসব সমস্যাসমূহ দূর করতে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আবাসন ব্যবস্থা, রেশনিং ও পরিবহন খাতে শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।

বক্তারা বলেন, শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, দেশের উন্নতি হবে। গার্মেস্টস সেক্টরের শ্রমিক বাঁচলে দেশের রপ্তানি আয় ক্রমেই বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে। উন্নত ও সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। অমানবিক জীবন-যাপনে বাধ্য ৪ কোটি শ্রমিক পরিবারকে বঞ্চিত রেখে উন্নয়নের পরিকল্পনার ‘পরি’ উড়ে যাবে শুধু কল্পনাই থাকবে।

এমই